অছাত্রকে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার ‘মানবিক আবেদন’ ছাত্রলীগের
ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যাওয়া এক নেতাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার জন্য ‘মানবিক আবেদন’ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
রাবি শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বিভাগের সভাপতি ড. পার্থ বিপ্লব রায়ের কাছে এ আবেদন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবসহ ২৫-৩০ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া ছাত্রলীগ নেতার নাম শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ছয় বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও তৃতীয় বর্ষে থাকতেই সাদ্দামের পাঁচ বছর শেষ হয়ে যায়। আর এ কারণেই সাদ্দামের ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাদ্দামকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ যেন বিভাগের সভাপতি দেন সেজন্য আমি ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকসহ বেশকিছু নেতাকর্মী ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিভাগের চেয়ারম্যান বিষয়টি বিবেচনা করেননি। বরং তিনি উল্টাপাল্টা আচরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া তাঁর পক্ষে সাদ্দামকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া সম্ভব নয়। পরে আমরা চলে এসেছি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টার দিকে সাদ্দাম রাবি শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসালম রাঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবসহ বেশি কিছু নেতাকর্মীকে নিয়ে বিভাগে যান। তাঁরা বিভাগের সভাপতি ড. পার্থ বিপ্লব রায়ের কাছে সাদ্দামকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
এ বিভাগের সভাপতি ড. পার্থ বিপ্লব রায় বলেন, ‘বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আজ সাদ্দাম ২৫-৩০ লোকজন নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করে। যে লোকজন আসে তারা ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কি না আমি জানি না, তবে সেখানে আমার বিভাগের সাদ্দাম ছাড়া আর কেউ ছিল না। এ সময় সাদ্দাম চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে এবং তৃতীয় বর্ষের দুটি বিষয়ে মানোন্নয়ন (ইম্প্রোভ) পরীক্ষা দিতে চান।’
‘কিন্তু সাদ্দামের ছাত্রত্ব না থাকায় নিয়ম ভঙ্গ করে তাঁকে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই। তা ছাড়া সাদ্দাম তো তৃতীয় বর্ষই পাস করতে পারেনি, চতুর্থ বর্ষে তাঁকে কী করে পরীক্ষা দিতে দেই?’, যোগ করেন পার্থ বিপ্লব। তিনি বলেন, চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা সঠিক সময়েই হবে।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, সাদ্দাম ২০১০-১১ সেশনে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তি হয়ে প্রথম বর্ষ শেষ করেন। এরপর তিনি দুই বর্ষ ড্রপ দেন। পরের বছর দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন। কিন্তু পরে আর তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি সাদ্দাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় বছরে স্নাতক শেষ করার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছর শেষ হয়ে গেলেও সাদ্দাম এখনো তৃতীয় বর্ষেই আছেন। সেই কারণে তাঁর ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে শরিফুল ইসলাম সাদ্দামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

রাবি সংবাদদাতা