মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনির দ্বিতীয় অনুষ্ঠান
“আমি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলাম মায়ের প্রেরণায়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে মা আমাকে একদিন বললেন, ‘রফিকুল, এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে বীরের মতো বেঁচে থাকা ভালো। তুই যুদ্ধে চলে যা।
দেশকে শত্রুমুক্ত কর। মা আমাকে উৎসর্গ করেন দেশের জন্য। এরপর আমি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে যাই ভারতে। তখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র। বয়স ১৮-১৯।” আবেগঘন কণ্ঠে যুদ্ধদিনের স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম।
মুক্ত আসরের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে শুরু হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। আজ শনিবার বিকেল পাঁচটায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চিলড্রেনস ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনির দ্বিতীয় অনুষ্ঠান। শিশু-কিশোরদের জন্য এই আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান বীরপ্রতীক খেতাব পাওয়া রফিকুল ইসলাম।
জাতীয় সংগীত গেয়ে শুরু হয় এই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। এরপর মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোমানা জাহান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশু-কিশোররা দেশের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।’
রফিকুল ইসলামের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার পর শিশু-কিশোরদের প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের ওপর কুইজের আয়োজন। সবশেষে ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ গানটি পরিবেশন করেন স্কুলের শিক্ষক নাজমীন ইসলাম। দেশাত্মবোধক এই গানের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্ত আসর সংগঠনের সভাপতি আবু সাঈদ, সদস্য আবু তা-সীন, আবু তাহের, ইব্রাহীম ভূইয়া, মুসা কাজিম সহ মোহাম্মদপুর চিলড্রেনস ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান মো.খলিলুর রহমান এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন উম্মে নূর কণা। বিস্তারিত জানা যাবে: https://www.facebook.com/MuktoAsor

অনলাইন ডেস্ক