সংবিধান সংশোধনের পরামর্শ উদ্বিগ্ন নাগরিকদের
দেশের চলমান সংকটের সমাধানে সংবিধানে কিছু সংশোধনী আনার প্রস্তাব দিয়েছে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের গণতান্ত্রিক সংকটি শুধু নির্বাচনী ব্যবস্থায় নয়, তা আরো অনেক গভীরে। চলমান সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানে সংবিধান সংশোধন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্বিন্যাস করতে কিছু প্রস্তাব তুলে শামসুল হুদা বলেন, নাগরিক সমাজের ভূমিকা ছাড়া গণতন্ত্র কখনোই সঠিক পথে এগুবে না।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পূর্ণ গণতন্ত্রের পথে অভিযাত্রা’ নামে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ। সংবাদ সম্মেলনে ড. শামসুল হুদা বলেন, ‘প্রধান দুই দল শুধু নির্বাচনের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়ায় দেশে অর্থবহ গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।’
urgentPhoto
এ জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানের কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব দেন শামসুল হুদা। এতে রাষ্ট্রপতি পদটির পূর্ণ স্বাধীনতার কথা বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য, নির্বাচনী ফলাফলের ক্ষেত্রে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে প্রত্যাহারের বিধান, ৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ বা দলের বিরুদ্ধে ভোটের ব্যবস্থাসহ গণভোটের প্রচলনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর পুনরুজ্জীবিত করা ও রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করার দাবি উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা ও আর্থিক স্বচ্ছতা, অঙ্গ সংগঠন ও বিদেশি শাখা বিলুপ্তির দাবি তারা জানিয়েছে।
শামসুল হুদা বলেন, সবাই মিলে এই সংস্কার না করলে বর্তমান সংকট বারবার ঘুরে ফিরে চলতেই থাকবে। এ জন্য তিনি একটি জাতীয় সনদ প্রস্তুত করারও তাগিদ দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক