জামায়াত নেতার স্ত্রী চাল পাওয়ায় আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক ধনাঢ্য নেতার স্ত্রীকে ১০ টাকা কেজির চাল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার পাঁচবিবির আওলাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওলাই গ্রামের স্থানীয় জামায়াত নেতা অবস্থাপন্ন স্কুলশিক্ষক আবদুল মালেকের স্ত্রী সখিনা বেগমের নামে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা ১০ টাকা কেজির চাল সংগ্রহের কার্ড ইস্যু করা হয়। আবদুল মালেক চারটি নাশকতার মামলার আসামি।
ওয়ার্ডের অনেক দুস্থকে বঞ্চিত করে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল খালেক জামায়াত নেতা মালেকের স্ত্রীকে ওই কার্ড দেওয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এ ছাড়া ওয়ার্ডের কয়েকজন বিত্তশালী ব্যক্তির স্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীর স্ত্রীর নামেও ১০ টাকা চালের কার্ড ইস্যু করার অভিযোগ ওঠে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অনিয়ম করে দুস্থদের জন্য ১০ টাকা কেজির চাল বিত্তবানদের দেওয়ায় প্রতিবাদ করেন ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান। কার্ড ইস্যুর দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় মেহেদী হাসানকে মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই এলাকার দুই শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিলসহ পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর উদ্দিন আল ফারুকের কাছে অভিযোগ করলে তিনি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও নূর উদ্দিন আল ফারুক বৃহস্পতিবার পাঁচবিবির আওলাই ইউনিয়নে সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পান বলে জানিয়েছেন। এরপর এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নাশকতার মামলার আসামি বিত্তবান জামায়াত নেতা আবদুল মালেকের স্ত্রীর নামে ১০ টাকা কেজির চাল সংগ্রহের কার্ড ইস্যু করাসহ নানা অনিয়মের সংবাদ ছাপা হয়। এই অনিয়মের খবর দেখে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ফোনে মৌখিকভাবে ইউএনওকে চাল বিতরণের কার্ড ইস্যু করার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এরপর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ইউপি সদস্য খালেকের বিরুদ্ধে পাঁচবিবি থানায় মামলা করেন।
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামায়াত নেতা আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে গত সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ‘আওয়ামী লীগের মুসলমান নেতাকর্মীদের তওবা পড়িয়ে আবারও মুসলমান করার ফতোয়া দেওয়া’র চাঞ্চল্যকর মামলাসহ মোট চারটি নাশকতার মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নাশকতার একটি ঘটনার মামলার বাদী গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল খালেকও।
এ ব্যাপারে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ইউপি সদস্য আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট