প্রাথমিকে ১০ শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের আদেশ বহাল
রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নওগাঁ জেলার ১০ জনের নিয়োগের ব্যাপারে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে ১০ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে আর কোনো আইনী বাধা নেই বলে জানিয়েছেন রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুল্লাহ মিয়া।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তাঁকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার তারেক আহমদ ও অ্যাডভোকেট সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। শুনানিতে অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম।
এর আগে ২০১৪ সালের ১৮ জুন রিট আবেদনকারী ১০ জনকে এক মাসের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষে করা আপিল খারিজ করে দেন। ফলে হাইকোর্টে উক্ত ১০ শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার আদেশ আপিলেও বহাল রইল। ১০ জন হলেন- শফিকুল ইসলাম, হাফিজ খান আসাদ, রওশন জাহান, রনক জাহান, লতিফা হেলেন, মনজুরা খাতুন, খালেকুজ্জামান, কামরুন নাহার, আবুল খায়ের ও মঞ্জুর মোর্সেদ।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে মর্মে এক সার্কুলার (বিজ্ঞপ্তি) প্রকাশ করা হয়। পরে এসব রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০১২ সালের ২১ মার্চ রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ পায়। ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার পর শর্ত পূরণ না করে উত্তীর্ণ ১৪ হাজার শিক্ষককে উপজেলাভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। যার ফলে অনেকে পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন। পরে বাদপড়া প্রার্থীদের ১০ জন ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে তাঁদের এক মাসের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে রায় দেন আদালত।

জাকের হোসেন