ভাস্কর নভেরা আহমেদ আর নেই
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অন্যতম রূপকার ভাস্কর নভেরা আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। প্যারিসের একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন।
সুন্দরবন অঞ্চলে ১৯৩০ সালে নভেরা আহমেদের জন্ম হয়। ওই সময় তাঁর বাবা সৈয়দ আহমেদ সেখানে কর্মরত ছিলেন। আইন বিষয়ে পড়তে ১৯৫১ সালে নভেরা আহমেদকে পরিবারের পক্ষ থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। ভাস্কর হওয়ার অদম্য স্পৃহায় নভেরা যোগ দেন সিটি অ্যান্ড গিল্ড স্টোন কার্ভিং ক্লাসে। পাঁচ বছর পড়াশোনার পর ন্যাশনাল ডিপ্লোমা পেয়ে দুই বছরের জন্য তিনি ফ্লোরেন্সে যান।
দেশে ফিরে ১৯৫৭ সালে নভেরা আহমেদ শুরু করেন শহীদ মিনারের কাজ। ওই সময় তাঁর সহযোগী ছিলেন শিল্পী হামিদুর রহমান। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সরকার নভেরাদের স্টুডিও ধ্বংস করে দেন। ওই বছর তিনি ঢাকায় প্রথম মুক্তাঙ্গন ভাস্কর্য প্রদর্শনী করেন।
urgentPhoto
নভেরা আহমেদের কয়েকটি খ্যাতনামা শিল্পকর্ম হলো ‘অপুর ভুবন’, ‘আলোর পথ’, ‘মানবতা’, ‘নিঃসঙ্গ’, ‘সূর্যাস্ত’, ‘বর্ষাকাল’, ‘সূর্যাস্ত কক্সবাজার’, ‘পাখির কলতান’ ইত্যাদি।
১৯৭৩ সালের পর নভেরা আহমেদ দেশ ত্যাগ করেন এবং প্যারিসে বসবাস শুরু করেন। ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে স্ট্রোকের ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।জীবনে শেষ কয়েকটি বছর তিনি হুইলচেয়ারে বসেই চলাফেরা করতেন।
১৯৬১ সালে ভাস্কর হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পান নভেরা আহমেদ। পরে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা একুশে পদকে তিনি ভূষিত হন। তাঁকে নিয়ে জীবনী উপন্যাস রচনা করেছেন প্রখ্যাত লেখক হাসনাত আবদুল হাই (নভেরা, ১৯৯৫)। এছাড়া তাঁকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মান করেন এন রাশেদ চৌধুরী। এছাড়া জাতীয় জাদুঘরের একটি হলের নামকরণ করা হয়েছে ‘ভাস্কর নভেরা আহমেদ হল'।
নভেরা আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

অনলাইন ডেস্ক