ঢাকায় চাকরিরত ছেলে নিখোঁজ পাঁচ মাস
ঢাকায় চাকরি করতে যাওয়া সাতক্ষীরার আশাশুনির মোত্তাসিম বিল্লাহ মিঠুন পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁর বাবা আশাশুনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
আজ বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাবা রইসউদ্দিন ফকির ছেলের সন্ধান দাবি করেন। তাঁর বাড়ি আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের খেড়ুয়ারডাঙ্গা গ্রামে।
দিনমজুর রইসউদ্দিন জানান, তাঁর ছেলে মিঠুন ২০১১ সালে আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করার পর আশাশুনি ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। সেখানে প্রায় দুই বছর পড়ালেখা করলেও পরীক্ষায় অংশ নেননি। ২০১৩ সালে বাড়ির আর্থিক অনটনের কারণে তিনি আর লেখাপড়া না করে ঢাকায় কোনো গার্মেন্টসে চাকরি করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
বাবা আরো জানান, পাশের গ্রাম জামালনগরের আনার আলীর ছেলে আবদুর রহমান ঢাকায় থাকেন। তাঁর মাধ্যমে মিঠুন চাকরির জন্য ঢাকা চলে যান। ঢাকার খিলক্ষেত বাজার মসজিদের পাশে একটি বাসায় থাকতেন তিনি। কিছুদিন পর তিনি উত্তরার ওরিয়ন সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নেন। এরপর মিঠুনকে সিকিউরিটি গার্ড হিসাবে বদলি করা হয় গাজীপুরে সান ফার্মাতে। সেখানে চাকরিরত অবস্থায় তাঁর মা রোকেয়া খাতুনের কাছে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার করে টাকা পাঠাতেন। তিনি জানান, একটি মোবাইল নম্বর থেকে ( ০১৬৮১ ৪০০৪৬৯ ) মিঠুন ও আবদুর রহমান দুজনেই বাড়িতে কথা বলতেন। আবদুর রহমান এখন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চাকরি করেন।
যোগাযোগ করা হলে আবদুর রহমান জানান, তিনি মিঠুনের সঙ্গে লেখাপড়া করেছেন। চাকরির জন্য ঢাকায় এসে একসঙ্গে থাকতেনও। ২০১৪ সালে তাঁর সঙ্গে মিঠুনের বাড়ি আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। তিনি চাকরি নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যান। কয়েক মাস ধরে তাঁর চারটি মোবাইল ফোনের সবই বন্ধ বলে জানান আবদুর রহমান। এখন মিঠুন কোথায় আছেন তা তাঁর জানা নেই বলে জানান এই প্রতিনিধিকে।
রইসউদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো দল করত না। সে কোনো অপরাধের সাথেও জড়িত না। সে ভালো ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত।’ আগের ব্যবহৃত সেই মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে একজন নারী ফোন ধরে বলেন ‘এটা ভুল নম্বর’। তিনি যে বাংলালিংক মোবাইল ব্যবহার করতেন সেটিও বন্ধ ( ০১৯৮৭৯৪২৯০১ )।
বারবার চেষ্টা করেও খোঁজ না পেয়ে রইসউদ্দিন আশাশুনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ছেলের কোনো খোঁজ পেলে ০১৭৪৩ ৩৮৭৭১৭ নম্বরে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা