সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের যৌথ টহল
যৌথ টহল ও কড়া নজরদারির মধ্যে বিজিবি ও বিএসএফ সীমান্তের দুই দেশীয় অপরাধ তৎপরতা দমনে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বজায় রেখে তারা চোরাচালান, মানবপাচার, অনুপ্রবেশসহ সীমান্তের নানা সমস্যা দূরীকরণ অব্যাহত রেখেছে।
আজ সোমবার সাতক্ষীরা সীমান্তের পদ্মশাকরায় দুই দেশের সীমানা বিভাজনকারী নদী ইছামতিতে বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ টহল শেষে ভারতীয় ও বাংলাদেশি সাংবাদিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন বিজিবির খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইকবাল হোসেন।
এ সময় আরো বক্তব্য দেন বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এনামুল আরিফ সুমন, ৩৮ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর নজরুল, ২১ ব্যাটালিয়নের মেজর শহীদ প্রমুখ।
২০১৪ সালে ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্তে যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ১৩ মার্চ রায়মঙ্গলে তিন নদীর মোহনায় টি জংশনে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম যৌথ টহল। এতে বিএসএফ ও বিজিবি অংশ নেয়।
আজকের মতবিনিময় সভায় বলা হয়, ১৭ ব্যাটালিয়নের অধীনে এ বছরের ১ জুন থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১১৫টি যৌথ টহল অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্ত অপরাধ দমনে তা অত্যন্ত সহায়ক বলে জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় বলা হয়, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় ইছামতির মধ্য সীমা দুই দেশের সীমানা বিভাজনকারী হিসেবে চিহ্ণিত হয়। এ সময় হাড়দ্দহায় বসানো হয় বাংলাদেশের সীমান্ত পথের এক নম্বর পিলার। কালক্রমে নদীর পানির দাপটে পিলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে একটি প্রতীকী পিলার অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। আগামীতে সেখানে স্থায়ী পিলার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
এপারের হাড়দ্দহা আর ওপারে পানিতর-এ তথ্য দিয়ে বিজিবি কর্মকর্তারা বলেন, এসব স্থানে চোরাচালান দমনে যৌথ নজরদারি রয়েছে।
মতবিনিময়ে অংশগ্রহণকারী জনগণের পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোনাজাত গাজী জানান, তারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক চান। বিজিবি ও বিএসএফ এক সঙ্গে কাজ করলে সীমান্তের মানুষ নিরাপদে থাকে বলেও জানান তিনি।
বিজিবির খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইকবাল হোসেন বলেন, এই সীমান্তের দুই পারে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ তাদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করছে। তাদের সহায়তার কারণে সাতক্ষীরার এই সীমান্তে দৃশ্যমান চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
সাতক্ষীরার শাকরা সীমান্তের হাড়দ্দহায় বাংলাদেশের এক নম্বর পিলারের পাশে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় দিল্লি থেকে আসা ১৬ জন ভারতীয় সাংবাদিক এবং ঢাকা, খুলনা ও সাতক্ষীরার ১৯ জন সাংবাদিক অংশ নেন। তাঁরা বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ টহলও পরিদর্শন করেন। বিজিবি কর্মকর্তারা তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
পরে দুই দেশের সাংবাদিকরা সীমান্তের হাড়দ্দহা ও ভারতের পানিতর গ্রামের মানুষের বাড়িঘরের ভৌগোলিক অবস্থান পরিদর্শন করেন। যুগ যুগ ধরে এক নম্বর পিলারের ধারে বসবাসকারী দুই দেশের মানুষ শান্তিতে রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা