কুমিল্লায় চামড়া নিয়ে অসন্তোষ
এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানি পশুর চামড়া কিনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লার মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। এসব খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।
আবার পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, তারা মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে চামড়া কিনছেন। ঢাকা থেকে নির্ধারণ করা দামে এখানে চামড়া কেনা যাচ্ছে না।
আজ মঙ্গলবার ঈদ জামাতের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় শুরু হয় পশু কোরবানির কার্যক্রম। এ সময় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে চামড়া কিনে নেন এবং তারপর বাজারে ওঠান। সেখান থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে নেন।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরে তা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। তবে, অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, ঢাকার ট্যানারি মালিকরাও লোক দিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে চামড়া কিনছেন। চামড়া কিনে গতবার লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছিল বলেও জানান অনেক ব্যবসায়ী।
চামড়ার ব্যবসাসংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যবসা সংগঠন ৯ সেপ্টেম্বর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে, কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণের বিষয়টি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীতে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট সর্বোচ্চ ৫০ টাকা, রাজধানীর বাইরে ৪০ টাকা। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট সর্বোচ্চ ২০ টাকা, বকরির চামড়া দাম প্রতি বর্গফুট ১৫ টাকা ও মহিষের চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বেলা ১১টা থেকেই পাড়া-মহল্লা থেকে সংগ্রহ করা চামড়া আসতে থাকে হাটে। দুপুরের পর পরই জমে ওঠে কুমিল্লা শহরের ছাতিপট্টি, ঋষিপট্টি, রাজগঞ্জ এলাকার চামড়া বাজার।
এখানে আসা দুজন মৌসুমী ব্যবসায়ী বলেন, তাঁরা ১৮টি চামড়া নিয়ে বাজারে এসেছেন। তারা প্রতিটি চামড়া কিনেছেন গড়ে এক হাজার ৮০০ টাকা করে। কিন্তু পাইকাররা সেই চামড়ার দাম দিচ্ছে গড়ে এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা করে। এতে তাদের প্রতিটি গরুর চামড়ায় গড়ে ৫০০ টাকা করে লোকসান দিতে হচ্ছে।
এই দুই মৌসুমী ব্যবসায়ী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বাকি জীবনে তাঁরা চামড়ার ব্যবসা করবেন না।
বাজারের একজন পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, ঢাকায় যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এখানে সেই দামে তাঁরা চামড়া কিনতে পারছেন না। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু কুমিল্লায় প্রতি বর্গফুট চামড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।
আরো কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ীও একই ধরনের কথা বলেন। তারা জানান, এখন তারা বেশি দামে চামড়া কিনছেন। তবে এতে লাভ না লোকসান হবে- সেটা এখনি বলা যাচ্ছে না। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের আড়তে চামড়া পাঠানোর পর সেটা বোঝা যাবে।
তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এটাও জানান, গত বছর চামড়া কিনে তারা ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। এবারও যদি সেরকম কিছু ঘটে তাহলে তাদের পথে বসতে হবে।

মো. জালাল উদ্দিন, কুমিল্লা