বান্দরবানে ভিড় জমাচ্ছে পর্যটকরা
প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে বান্দরবানে ভিড় জমাচ্ছে পর্যটকরা। ভ্রমণপিপাসু মানুষদের বরণে প্রস্তুত বান্দরবানের আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউসগুলো। পবিত্র ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামলাতে ট্যুরিস্ট স্পট, আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো ধুয়েমুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়েছে। অধিকাংশ হোটেলের কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে গেছে। পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ ও তাদের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
শীত কিংবা বর্ষা প্রতিবছর মূলত ঈদের ছুটিকে সামনে রেখেই রূপের রানি বান্দরবানে পর্যটকের আগমন ঘটে। এবারও ব্যক্তিক্রম ঘটেনি। ঈদের লম্বা ছুটি কাটাতে বান্দরবানে ভ্রমণপিপাসু মানুষদের ড়িড় বাড়ছে।
গ্রিনল্যান্ড হোটেলের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের সবগুলো কক্ষ বুকিং রয়েছে। অতিথি পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’
একই কথা বললেন পালকি গেস্টহাউসের পরিচালক শাফায়েত হোসেন, ‘বাড়তি ঝামেলা এড়াতে অন্যবারের মতো এবার আমরা ঈদের ছুটিতে শতভাগ রুম অগ্রিম বুকিং দিইনি। বেড়াতে আসা পর্যটকরা দেখে পছন্দমতো রুমে উঠতে পারবেন।’
হলিডে ইন রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন জানান, তাদের রিসোর্টের সবগুলো কক্ষ এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা সবগুলো কক্ষের বরাদ্দ রয়েছে।
পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় বান্দরবানে প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে ছুটে আসছে পর্যটকরা। এখান রয়েছে পাহাড়ি ঝরনা, প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু, বাদুর গুহা, দেবতা পাহাড়, আলীর সুড়ঙ্গ পথ এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গসহ অসংখ্য পাহাড়।

এখানকার চিম্বুক পাহাড় এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত স্বপ্নিল নীলগিরি পর্যটন স্পটে গিয়ে মুগ্ধ হয় পর্যটকরা। অসংখ্য পাহাড়ের মাঝখানে নির্মিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র যেন মেঘে ভাসছে। জেলা সদরের বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদি পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এ ছাড়া রুমা উপজেলায় অবস্থিত রিজুক ঝরনা, রহস্যময় কিংবদন্তি বগা লেক এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং ও তাজিংডং বিজয় প্রতিটি স্পট পর্যটকের পদচারণে মুখরিত হচ্ছে।
পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা সাঙ্গু নদীপথে নৌকা নিয়েও ঘুরছে পর্যটকরা। আর বান্দরবানের পাহাড়ে বসবাসরত মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাসের বৈচিত্র্যময় জীবনচিত্র পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওয়া।
আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে ঢল নামে পর্যটকের। এরই মধ্যে আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউসগুলো মোটামুটি ৯০ ভাগ বরাদ্দ হয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, ঈদে নৈসর্গিক বান্দরবানে পর্যটকের বাড়তি চাপ লক্ষ যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। ঈদের বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় থাকবেন।

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান