শ্লীলতাহানির হুমকির অভিযোগ নারী চিকিৎসকের
সাতক্ষীরার শ্যামনগর হাসপাতালে একটি শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নারী চিকিৎসককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই নারী চিকিৎসক হলেন ডা. শম্পা রানী। আজ শুক্রবার দুর্বৃত্তরা তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করার হুমকি দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
এ ছাড়া গত বুধবার শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ করেন ডা. শম্পার বাবা মাস্টার নগেন্দ্রনাথ সরদার।
পরিবারের অভিযোগ, ডা. শম্পাকে যেকোনো সময় তুলে নিয়ে যাওয়া হবে , তাঁর শ্লীলতাহানি করা হবে এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সবাইকে খুন করা হবে বলে দুর্বৃত্তরা হুমকি দিয়ে আসছে বারবার। হামলার ঘটনায় কারাগারে আটক তিন আসামির পক্ষে অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোনে এই হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান , মেডিকেল অফিসার ডা. দীপংকর মণ্ডল, পূজা উদযাপন পরিষদ নেতা অধ্যাপক পরিমল কুমার মণ্ডল, অধ্যাপক কিশোরী মোহন মণ্ডল, প্রধান শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল ও রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে নগেন্দ্র নাথ সরদার বলেন, ‘গত ২৮ আগস্ট তাহেরা খাতুন নামের চার বছরের একটি শিশুকে পেটের নাড়ি জড়ানো ( ইনটেসটিন্যাল অবস্ট্রাকশন ) রোগে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার তাকে চিকিৎসা ও স্যালাইন দিয়ে বেডে পাঠিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডা. দীপংকর মণ্ডল তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন এবং একই সঙ্গে এক্স-রে করতে পাঠান । এর কিছু সময় পর রোগীটি মারা যায়।
নগেন্দ্র নাথ জানান, তাঁর মেয়ে ডা. শম্পা রানী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( আরএমও )। শিশুটির ডেথ সার্টিফিকেট তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় শ্যামনগর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুস সবুর, সাংগঠনিক সম্পাদক জয় মণ্ডল ও তাদের সহযোগী আবু রহমত ডা. শম্পার ওপর হামলা চালায়। তারা তাঁকে কিল-ঘুষি মারে এবং পোশাক ধরে টানাহেঁচড়া করে। ডা. শম্পা এ সময় আত্মরক্ষার্থে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
ডা. শম্পার বাবা জানান, তাঁর মেয়ে রোগীকে কোনো চিকিৎসা দেননি। এমনকি রোগীটি সম্পর্কে তাঁর বেশি কিছু জানাও ছিল না।
মাস্টার নগেন্দ্র নাথ সরদার আরো বলেন, হামলার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী ডা. শম্পা শ্যামনগর থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ এই মামলায় ছাত্রলীগ নেতা আবদুস সবুর , রহমত ও জয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, ‘এখন আমার পরিবারের ওপর নানাভাবে হুমকি আসছে। মামলা না তুলে নিলে তাকে উঠিয়ে নিয়ে শ্লীলতাহানি ঘটানো হবে। আমাকেসহ আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে।’
এ ব্যাপারে ডা. শম্পা বলেন, ‘আমাকে কয়েকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। আমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার জন্য মৃত শিশু তাহেরার পরিবারকে চাপ দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা।’

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা