পুলিশকে কামড়ে আসামি ছিনিয়ে নিলেন নারীরা
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়ায় সাদা পোশাকধারী এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে নাশকতা মামলার আসামি যুবদলের এক নেতাকে ছিনিয়ে নিয়েছেন নারীরা। তাঁরা পুলিশের এক কনস্টেবলকে কামড়ে আহত করেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনার পর পুলিশ এলাকায় গিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পিন্টু লাল দাস জানান, তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ পুলিশ সদস্য আজ দুপুরে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামকে ধরতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। সাদা পোশাকধারী পুলিশ শফিকুলকে গ্রেপ্তারও করে। এ সময় শতাধিক নারী পুলিশের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে শফিকুলকে ছিনিয়ে নেন। তিনি জানান, নারীদের কামড়ে কনস্টেবল সবুজ আহত হন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ শেখ বলেন, শফিকুল ইসলাম একাধিক নাশকতা মামলার আসামি। তিনি একজন অস্ত্র চোরাকারবারি। বেশির ভাগ সময় ভারতে পালিয়ে থাকা শফিকুল আজ সকালে বাড়িতে আসেন। এ খবর পেয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করলে নারীরা কনস্টেবল সবুজের হাতে কামড় দিয়ে শফিকুলকে ছিনিয়ে নেন।
ওসি জানান, এলাকার ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে নারীরা এই হামলা করেন।
তবে এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শফিকুল ইসলামকে আটক করার সময় সাদা পোশাকধারী দুজন পুলিশ সদস্য বাড়ির নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। গ্রেপ্তারের পর তাঁরা শফিকুলকে বাজারে এনে গালাগাল ও মারধর করতে থাকেন। এ নিয়ে কবির আহমেদ ও মো. সালাহউদ্দিন পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কি করেন। এ সময় কমপক্ষে ৫০ জন নারী পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে শফিকুলকে ছিনিয়ে নেন।
এদিকে আসামি ছিনতাইয়ের খবর কলারোয়া থানায় পৌঁছাতেই ওসি এমদাদ শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চান্দুড়িয়া বাজারে হানা দেয়। তারা তাণ্ডব শুরু করলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের লোকজন আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ওসি জানান, শফিকুলকে ফের গ্রেপ্তার করা যায়নি। কাছেই সীমান্ত হওয়ায় তিনি ভারতে পালিয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কবির আহমেদ ও সালাহউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা