ফারাক্কার ছাড়া পানিতে পদ্মাতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত
ভারত ফারাক্কার বাঁধের ১০৪টি স্লুইস গেট খুলে দেওয়ায় রাজশাহীতে পদ্মার পানি বেড়ে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে নদীতীরবর্তী এলাকা।
রাজশাহীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানিবিজ্ঞান বিভাগের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে জানান, গত মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। ফারাক্কার স্লুইস গেট খুলে দেওয়ার পর গত তিনদিনে পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ সেন্টিমিটারে। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত পানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার। তবে এই পানিপ্রবাহ এখনো বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে।
যে হারে পানি বাড়ছে সেই হারে বাড়তে থাকলে খুব দ্রুতই পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন পাউবো কর্মকর্তা।
অপরদিকে পাউবোর কুষ্টিয়া কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ভেড়ামারা উপজেলার ঢাকাপাড়া ও সোলেমান নগরের বেশির ভাগ অংশই নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
পদ্মায় অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে বাঘা পর্যন্ত পদ্মার উভয় তীরে এবং নদীর ভেতরের চরাঞ্চলের বসতবাড়ির মধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। নগরীর লালন শাহ পার্ক থেকে তালাইমারী শহীদ মিনার পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধের খুব কাছে পানি থৈ থৈ করছে। এরই মধ্যে শহররক্ষা বাঁধের ভেতর গড়ে ওঠা বসতিতে পানি ঢুকে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চর খিদিরপুর ও নবগঙ্গা এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। চরাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষ গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহ নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন।

অন্যদিকে, পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের মধ্যচরে নতুনভাবে বসতি স্থাপন করা ২৫০টি বাড়িতে হাঁটুপানি উঠে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু জানান, মধ্যচরের ওই পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে অত্যন্ত দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা গবাদি পশু নিয়ে পড়েছে বেশি বিপদে। দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট।
এ ছাড়া হরিপুর ইউনিয়নের নবগঙ্গা এলাকায় পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ওই এলাকার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তা ছাড়া পানিবন্দি অবস্থায় গবাদি পশু নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন চর মাঝারদিয়ার এলাকার লোকজন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল জানান, বাড়ির আশপাশ এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাবার সংগ্রহ করা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে চর মাঝারদিয়ারের লোকজন।

শ. ম সাজু, রাজশাহী
ফারুক আহমেদ পিনু, কুষ্টিয়া