আজ মধ্যরাত থেকে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আজ শনিবার রাত ১২টা থেকে আগামী ২৯ এপ্রিল (বুধবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
এ ছাড়া ২৭ এপ্রিল (সোমবার) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, টেক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো প্রভৃতি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সিটি করপোরেশন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এ সময় সেখানে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমী, যুগ্ম কমিশনার মীর রেজাউল করীম, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা বাসস।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচনে শুধু রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বৈধ পরিদর্শকসহ জরুরি সেবামূলক কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ কার্যক্রমের ওপরে এ নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজ্য নয়।
আগামীকাল মধ্যরাত থেকে প্রচার বন্ধ
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২৫ এপ্রিল (শনিবার) ভোর ৬টা থেকে ১ মে (শুক্রবার) রাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৬ এপ্রিল (রোববার) মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধুমাত্র অনুমোদিত আইডি কার্ড সম্বলিত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা আইডি কার্ড প্রদর্শন করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক পর্যবেক্ষক সংস্থা প্রতি দলে অনধিক পাঁচজন করে একাধিক ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষণ দল গঠন করতে পারবে। তারা ভোটকেন্দ্রের প্রতি বুথে স্বল্পসময়ের জন্য অবস্থান ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।’ বলেন মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
প্রতি কেন্দ্রে ১২ জন পুলিশ ও আনসার
ডিএমপি কমিশনার আরো জানান, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট কেন্দ্র এক হাজার ৯৮২টি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ৪২৯টি। নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব-পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি ৭০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রত্যেক বড় কেন্দ্রে ১২ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবেন। বড় কেন্দ্রে ১২টি ও ছোট কেন্দ্রে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশ নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে।
মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এসব কেন্দ্রের পর্যাপ্ত নিরাপত্তায় প্রতিটি ওয়ার্ডে দুটি করে মোবাইল টহল দলসহ তিনটি ভোটকেন্দ্রের জন্য একটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স থাকবে। মোবাইল পার্টিগুলোতে মোবাইল সেট, ওয়ারলেস সেটসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য একটি প্রধান কন্ট্রোলরুমসহ চারটি সাব-কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা থাকবে।
‘নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার স্থান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি টিভির মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনারোধে গোয়েন্দা দল, স্টাইকিং ফোর্স ও থানা পুলিশ কাজ করবে। পেশিশক্তি ও কালো টাকার প্রভাব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে মাঠে পুলিশের গোয়েন্দা দল কাজ করছে।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, নির্বাচনের আগের দিন দক্ষিণে আটটি ও উত্তরে আটটিসহ মোট ১৬টি স্থান থেকে ব্যালট সামগ্রী বিতরণ করা হবে। সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।

অনলাইন ডেস্ক