হামলার চার বছর পর উদ্ধার হয়েছিল ৪১টি গ্রেনেড
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলার ঘটনার চার বছর পর সাতক্ষীরা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল সেদিন ব্যবহার শেষে বেচে যাওয়া ৪১টি গ্রেনেড।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে হরকাতুল জিহাদ (হুজি) জঙ্গি নড়াইলের আবু জান্দাল ও সাতক্ষীরার নজরুল ঘরামি এখনো কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর জেলার মেম্বারবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের হুজি জঙ্গি মুফতি মঈনুদ্দিন ওরফে আবু মাসুম ওরফে আবু জান্দাল। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তাঁকে নিয়ে যায় সাতক্ষীরার দেবহাটার শিমুলিয়া গ্রামের হুজি জঙ্গি নজরুল ঘরামির বাড়িতে। সেখানে এ দুজনকে মুখোমুখি করার একপর্যায়ে আবু জান্দাল ও নজরুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গ্রেনেড লুকিয়ে রাখার স্থান দেখিয়ে দেয়। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি নজরুল ঘরামির বাড়ির পুকুরপাড়ের মাটির নিচে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থা থেকে ৪১টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া জান্দাল ও নজরুল জানান, ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে ব্যবহারের কিছুদিন পর টাঙ্গাইলের মুফতি তাজউদ্দিন তাঁদের কাছে গ্রেনেডগুলো দিয়েছিলেন নিরাপদে রেখে দেওয়ার জন্য। নজরুলের শ্যালক জামালউদ্দিনের সঙ্গে তেজগাঁও পলিটেকনিকে পড়াকালীন আবু জান্দালের ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি। এ সুযোগ নিয়ে আবু জান্দাল জামালউদ্দিনের মাধ্যমে তাঁর বোনজামাই নজরুল ঘরামির দায়িত্বে রেখে যায় এসব গ্রেনেড।
জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল আরো জানিয়েছিলেন, গ্রেনেডগুলো ভারতের একটি গ্রুপের কাছে পরে বিক্রির কথা ছিল। এ জন্য ক্রেতাও ঠিক হয়েছিল। কিন্তু ভারত থেকে আসার পথে ওই ক্রেতা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে ধরা পড়ায় গ্রেনেডগুলো আর বিক্রি করা যায়নি।
এদিকে, গ্রেনেডবিষয়ক মামলায় ২০০৮ সালের ১৫ জুন সাতক্ষীরার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালত আবু জান্দাল ও নজরুলের ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। তাঁরা এখনো সেই দণ্ড ভোগ করছেন।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা