পুলিশের ভূমিকা হতাশাজনক : ড. মিজান
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বর্ষবরণ উৎসবে টিএসসিতে নারীর যৌন হয়রানির ঘটনায় ধর্মান্ধ, মৌলবাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা হতাশাজনক উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকের কাছ থেকে পাওয়া ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে পুলিশের মধ্যে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা যেন নিছক লোকদেখানো না হয়। কমিশন স্পষ্ট করে বলতে চায়, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে কালক্ষেপণ বা দীর্ঘসূত্রতা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’
‘দেশের ধর্মান্ধ, মৌলবাদী গোষ্ঠী জনপরিসরে নারীর উপস্থিতি ও অংশগ্রহণকে মেনে নিতে পারছে না। তারা এতে এক ধরনের ভয় বা আতঙ্কবোধ করছে। এটাই তাদের উদ্বেগের মূল কারণ। তারা নারীশক্তিকে ভয় পায় বলেই ভয় দেখায়,’ যোগ করেন ড. মিজান।
ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব টিচার্স ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক মানবাধিকারকর্মী অ্যারোমা দত্ত এবং মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কাজী রিয়াজুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মিজানুর রহমানের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, বৈশাখ উদযাপন কৃষি ও কৃষকের সাথে সম্পর্কিত এক চিরায়ত বাংলার উৎসব। এ উৎসবের বিশেষ দিক হচ্ছে সর্বজনীনতা। ধর্মান্ধ গোষ্ঠী এ সর্বজনীনতা মানতে পারছে না। তারা বিভক্তি তৈরি করতে চায়। দেশের সুদৃঢ় সাংস্কৃতিক ঐক্যে ফাটল ধরাতে চায়। ভয় দেখিয়ে পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন রূপকে ধ্বংস করতে চায়।
যৌন হয়রানির ঘটনায় নারীর ঘর থেকে বেরুনোকে যাঁরা দায়ী করেন, তাঁদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিভূ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, ‘পুরুষতন্ত্র আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণ করছে, মেরামত করছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ করছে। পুরুষতন্ত্র নারীর চলাফেরার ক্ষেত্রকে নির্ধারণ করছে। যেমন-রাজপথ পুরুষের, টিএসসি পুরুষের, সংসদ পুরুষের। ফলে কল্পিত এ পুরুষ রাজ্যে যখন নারী ঢুকে পড়ছে তখনই তারা বিচলিত বোধ করছে।’
তিনি নারীর প্রতি যৌন হয়রানির সাথে জড়িত এসব সহিংস পুরুষদের ‘বুনো শুয়োর’-এর সাথে তুলনা করে বলেন, পুরুষতন্ত্র তাদের ধর্মান্ধতা ও অপরিশোধিত মনুষ্যরূপ দানবে পরিণত করেছে। ভয় দেখিয়ে, শ্লীলতাহানি করে তারা বোঝাতে চায়, এ জায়গা তোমার নয়।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রাষ্ট্র, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নারীর প্রতি সংবেদনশীল ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের নারীর প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কোনো প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাননি। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দোষী ব্যক্তিদের বিচার ও শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমের উচিত এ ব্যাপারে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচার করা। যে সাংবাদিক এসব ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করেছেন, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চতকরণে তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নারীর অগ্রযাত্রা প্রতিরোধে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করতে তিনি সব প্রগতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনলাইন ডেস্ক