কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি
কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে এখনো বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কমতে শুরু করেছে অন্যান্য নদীর পানিও।
এদিকে, পানি কমতে শুরু করায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিত মানুষের। এখনো পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট। সেই সঙ্গে চারণভূমি তলিয়ে থাকায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চরপার্বতীপুরের নছিমন বেওয়া ও খাদিজা খাতুন জানান, নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ঘরবাড়ি থেকে এখনো পানি নামেনি। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বা চেয়ারম্যান কেউ তাঁদের খোঁজ নেয়নি। কোনো ত্রাণও পাননি। ছেলেমেয়ে নিয়ে খাদ্যসংকটে আছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৫০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হ্রাস পেয়েছে ধরলা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর পানিও।
এদিকে, আগামীকাল বুধবার কুড়িগ্রামের দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে আসবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি কাল বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে চিলমারী উপজেলায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করবেন বলে জানা গেছে।

হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম