বন্দুক যুদ্ধে নিহত : তিনটি মামলা করল পুলিশ
মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যা চেষ্টায় আটক গোলাম ফায়েজুল্লাহ্ ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে। শনিবার রাতে এ সব মামলা করা হয়।
এদিকে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিহত ফাহিমের বাবা, চাচা ও অন্য এক আত্মীয় তাঁর লাশ গ্রহণ করতে আসেন। পুলিশ কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে তাদের থানায় মধ্যে আড়াল করে রাখে। এ সময় মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) রুমে নিহতের বাবা গোলাম ফারুক বলেন, ‘কি হবে বলে।’ এরপর পুলিশ সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে নিহত ফাহিমের স্বজনদের আড়াল করে রাখে। পুলিশ সন্ধ্যার কিছু আগে অত্যন্ত গোপনীয়তায় নিহত ফাহিমের লাশ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ জানায়, গোলাম ফায়েজুল্লাহ ফাহিমকে নিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচরে পুলিশের অভিযানের সময় গত শনিবার ভোরে ফাহিমের সহযোগিরা তাঁকে গুলি করে। পুলিশের দাবি, ওই ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত হন ফাহিম।
এই ঘটনায় শনিবার রাতে মাদারীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বারেক হাওলাদার বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করে ফাহিম হত্যার ঘটনায় একটি, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি ও অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল মোর্শেদ এসব মামলার কথা জানিয়েছেন।
মাদারীপুর সদর থানার বিশেষ একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ফাহিমকে নিয়ে তার দেওয়া তথ্য মতে অভিযানে নামে পুলিশের ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম। এ বিশেষ টিমে অংশ নেয় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল মোর্শেদ, জেলার গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান, সদর থানার ওসি (তদন্ত) সুকদেব রায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বারেক হাওলাদারসহ পুলিশের ২০ সদস্যের একটি দল। অভিযান চলাকালে ফাহিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার ভোরে তাঁকে মিয়ারচর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফাহিমের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টাগুলি ছোড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ফাহিম নিহত হয়। ফাহিমের সহযোগিরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
মাদারীপুর সরকারী নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক রিপন চক্রবর্তী (৪০) বুধবার কলেজের পরীক্ষার কাজ শেষে কলেজ ক্যাম্পাস সংলগ্ন ভাড়া করা বাসায় চলে যান। ওই বাসায় তিনি একাই থাকেন এবং বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বিকেলে দরজা খোলা মাত্রই তিনজন দৃর্বুত্ত রিপনকে কোপাতে থাকে। রিপনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে প্রধান সড়কে গিয়ে একটি ইজিবাইকে চড়ে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় কলেজের কর্মচারী মিরাজ ফায়েজুল্লাহ ফাহিম (১৯) নামের এক দুর্বৃত্তকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এদিকে স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে উপপরিদর্শক (এসআই) আইয়ুব আলী বাদী হয়ে সদর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে আসামি ফায়েজুল্লাহ ফাহিমকে মাদারীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করে ১৫দিনের রিমান্ডের আবেদন করে সদর থানার পুলিশ। আদালতের বিচারক মো. সাইদুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বন্দুকযুদ্ধের সময় ফাহিম রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে ছিল।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর