সালথায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ, আটক দুই
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বল্লভদি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়নের চর বল্লভদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের গোপালগঞ্জের মোকসুদপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আজ সকালে চরবল্লভদি গ্রামের ইমদাদুল মাতুব্বার (৩৭) ও ফজলু মাতুব্বারের ( ৪৮) উপর প্রতিপক্ষ আউয়াল মুন্সীর লোকজন হামলা চালায়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজনা পরিস্থিতি সামাল দিতে সালাম মোল্লা ও কুটি মিয়াকে আটক করে।
অপরদিকে এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর আউয়াল মুন্সীর সমর্থক রিয়াজ শেখের (১৪) ওপর হামলা করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
আহত ফজলু মাতুব্বার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আর ইমদাদ টেংরাখোলা বাজারে কাঁচা মালের ব্যবসা করি। খুব ভোরে বাড়ি থেকে বাজারের যাওয়ার সময় মোল্লার মোড়ে আউয়াল মুন্সীর সমর্থক সালাম মোল্লা, আবুল খায়ের, জব্বার, রুহুল, হান্নান ও পান্নুসহ ৮-১০ জন আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
আরেক পক্ষের আহত রিয়াজ বলেন, ‘আমি ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় ইউনুছ মাতুব্বরের লোকজন আমার ওপর হামলা করে ভ্যান গাড়ি নিয়ে যায়।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বল্লভদি গ্রামের কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে যারা এসব অপকর্ম চালায় তাদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া উচিত।
উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও বল্লভদি ইউনিয়নের পরাজিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন বলেন, ‘যাদের আউয়াল মুন্সীর লোকজন মারধর করেছে, ওরা আমাকে ভোট দিয়েছে। এ ছাড়া আউয়াল মুন্সীর লোকজনের দাপটে আমার সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে ঘর-বাড়ি ছাড়া ছিল। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় তারা বাড়িতে আসে। কিন্তু ওরা আমার লোকজনকে মাঝেমধ্যে এভাবেই মারধর করে আসছে।’
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ডিএম বেলায়েত হোসেন বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৩
একই উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে আজ বিকেলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৩ জন। স্থানীয়রা জানান, আজ সন্ধ্যার কিছু আগে আলমগীর মিয়ার লোকজনের সঙ্গে ইলিয়াস কাজীর লোকজনের সাথে সংঘর্ষ হয়।
এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি ডিএম বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি গণ্ডগোলের কথা জানামাত্রই এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছি। তারা এখনো এলাকায় অবস্থান করছে। আমার জানা মতে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর