এত দিনে ফুটিল সে ফুল
জ্যৈষ্ঠের দহন শেষে এসেছে আষাঢ়ষ্য প্রথম দিন। এরই সঙ্গে মিটিছে সাধ। বর্ষা কাব্যময়, প্রেমময়। বর্ষা ফুটিয়েছে ফুল।
‘১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে জ্যৈষ্ঠের অসহ্য গরমের মধ্যে বৃষ্টির পরশ পেয়ে সে ফুল ফুটল। আমি এখন আত্মহারা।’
‘সকাল থেকে স্কুলে পড়াই ছোট সোনামণিদের। সেই সঙ্গে রোজই মনের কল্পনায় আলপনা আঁকি ফুলের শোভা। কেমন সে শোভা। অবশেষে মন ভরে দিয়েছে সাদা পাপড়ির পরাগ ঘিরে মৃদু হলুদাভ ফুল। আমার বাড়ির আঙিনা এখন ফুলেল শোভায় শোভিত, স্পন্দিত।’
কথাগুলো বলছিলেন মোমেনা খাতুন। তিনি জানেন না ফুলের নামটি। ১৫ বছর আগে অনেক সাধ করে বোন আমেনা খাতুনের বাড়ি শিমুলবাড়িয়া থেকে ক্যাকটাস জাতীয় ফুলের চারা নিয়ে এসেছিলেন। সযতনে লাগিয়েছিলেন বাড়ির আঙিনায়। এত দিনে ফুলের দেখা না দিয়ে মনে অনেক কষ্ট দিয়েছে চারাটি। অবশেষে দেখা দিল সেই কাঙ্ক্ষিত কুঁড়ির।
মোমেনা বলেন, ‘আমি বুঝে নিলাম আমার সাধ পূরণ হতে চলেছে। আমার হৃদয় আর চোখজুড়ে এলো নতুন কিরণমালা। এত দিনের মনঃকষ্টের সমাপনও ঘটল এবার। প্রস্ফুটিত ফুল আমার হৃদয়ে নতুন প্রাণস্পন্দন এনে দিয়েছে।’
‘রাত ১২টার পর প্রস্ফুটিত হলো চোখজুড়ানো মনোমুগ্ধকর ফুল। রাতভর সৌন্দর্য বিলিয়ে প্রত্যুষে সূর্যের দেখা মিলতেই চোখ বন্ধ করছে আমার ফুলগুলো। আমি বিমর্ষ হয়ে উঠি। অপেক্ষায় থাকি রাত ১২টা পর্যন্ত । চক্ষু উন্মোচন করতেই ভেসে ওঠে ফুলের শোভা। দিবাভাগে ওর মলিন মূর্তি দেখে কষ্ট নিতে চাই না। তাই সন্ধ্যা হতেই ওর দিকে চক্ষু মেলে রাখি।’
সাতক্ষীরা শহরতলির পারকুখরালির বাড়িতে থাকেন মোমেনা খাতুন। বাটকেখালির ‘দ্য চাইল্ড গার্ডেন স্কুলে’ ছোট সোনামণিদের পড়ান তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃষ্টির শীতল পরশে ফুটেছে তাঁর প্রতীক্ষার ফুল।
মোমেনা খাতুনের চোখ জুড়ানো হাসিতে উচ্ছল হয়ে উঠেছে নাম-না-জানা সে ফুল। আনন্দে এখন আত্মহারা তিনি, তাঁর পরিবার। সবাইকে ডেকে বলছেন, ‘আমার গাছে ফুল ফুটেছে, তোরা দেখবি যদি আয়।’

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা