রাজশাহীতে স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন
রাজশাহী নগরীর চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ রেফাতুন খাতুন হত্যা মামলায় স্বামী ইব্রাহীম হোসেন মোহনকে (২৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আদালত তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আজ সোমবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১-এর বিচারক মনসুর আলম এ রায় দেন। রায় ঘোষণাকালে আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইব্রাহীমের মা জিন্নাতুন নেসা ও বোন সুমি খাতুনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (অতিরিক্ত পিপি) আতিকুজ্জামান নাসিম ও আসামিপক্ষের আইনজীবী সিরাজী শওকত সালেহীন এলেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, রাজশাহী নগরীর কয়েরদারা বিলপাড়া এলাকার ইব্রাহীমের সঙ্গে মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের রেফাতুন খাতুনের বিয়ে হয় ২০১২ সালের জুলাইয়ে। বিয়ের এক বছর না যেতেই ইব্রাহীম ও তাঁর মা জিন্নাতুন নেসা এবং বোন সুমি খাতুন যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ রেফাতুনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করেন। এর জের ধরে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই বিকেলে একই দাবিতে তাঁরা গৃহবধূর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালালে একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে মোবাইলে খবর পেয়ে নিহত রেফাতুন খাতুনের ভাই শাহীন আলম শহরে গিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় বোনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় ইব্রাহীমসহ ওই তিনজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন শাহীন আলম। পরে এ মামলায় ইব্রাহীম, তাঁর মা জিন্নাতুন নেসা ও বোন সুমিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরে আদালতে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এতে ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার দুপুরে আদালতের বিচারক তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

শ. ম সাজু, রাজশাহী