বাগমারায় সহিংসতা : আ. লীগের ১২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়ায় ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত এক হাজার ২০০ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে দায়ের করা মামলাটির বাদী হয়েছেন হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মাসউদ আলী সরকার। মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদান এবং আওয়ামী লীগের এক কর্মী গুলিতে নিহতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এই মামলায় আজ রাত ৮টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, দায়ের করা মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদান এবং সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী সিদ্দিকুর রহমানকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, শনিবার বিকেলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর হাটগাঙ্গোপাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ গা-ঢাকা দিয়েছেন। এতে পুরো গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
আহতরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাকসহ আট পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। অন্যরা হলেন- বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব হাসান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলাম, কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, আফজাল হোসেন, শহীদুল ইসলাম ও মাসুদুর রহমান। এ ছাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
বাগামারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদে গত শনিবার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে এ উপজেলায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এরপরও এ নির্বাচনকে ঘিরে আউচপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দলের ইউনিয়ন সভাপতি জান মোহাম্মদ সরদার ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান শহিদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলিও করে। সংঘর্ষে দুজন মারা যায়।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার নিশারুল আরিফ জানান, ওই ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। এতে ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো এক হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, গুলিতে সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক নামের এক আওয়ামী লীগকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় রমজান আলী রঞ্জু নামের অপর একজন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, সংঘর্ষে পুলিশসহ পক্ষ ছিল তিনটি। অপর দুই পক্ষের একটি আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাঁর কর্মী-সমর্থক। অপর পক্ষ ছিল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থক। সংঘর্ষের সময় তিন পক্ষই শক্তি প্রদর্শন করেছে। সেখানে পুলিশ ছাড়া অন্যরাও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। ফলে আওয়ামী লীগকর্মী সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক কাদের গুলিতে নিহত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তা জানা যাবে। তবে রমজান আলী রঞ্জু হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তাঁর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার রাতে সারনদি গ্রামে এক প্রার্থীর সমর্থকের পুকুরের মাছ বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হয়। এর জের ধরে অপর প্রার্থীর সমর্থকদের ভুট্টাক্ষেত নষ্ট করে ফেলা হয়। মূলত এ থেকে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সে ক্ষোভ থেকে দুই পক্ষই শুক্রবার বিকেলে হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে জড়ো হতে থাকে। বিকেলে এক পক্ষ মিছিল বের করলে সঙ্গে সঙ্গে অপর পক্ষও মিছিল বের করে। এভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার নিশারুল আরিফ।

শ. ম সাজু, রাজশাহী