তানোরে পীরের মুরিদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জুমারপাড়া এলাকার এক আমবাগান থেকে প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাঁর লাশ উদ্ধার করে তানোর থানার পুলিশ। রাতে তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর বাড়ি পাশের উপজেলার নওহাটা পৌরসভার মহানন্দখালী এলাকায়।
এ ঘটনায় আজ শনিবার সকালে নিহতের ছেলে রাসেল আহম্মেদ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে আসামি করা হয়নি।
শহীদুল্লাহর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
নিহতের ছেলে রাসেল আহম্মেদ শুক্রবার রাতে তানোর থানায় গিয়ে বাবার মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পীর ইমাম মেহেদী ওয়াকফ স্টেট তরিকার মুরিদ ছিলেন। তবে শহীদুল্লাহ পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।
রাসেল আহম্মেদ জানান, তাঁর বাবা শুক্রবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর গোলাবাড়ী গ্রামে যাচ্ছিলেন। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ পাচ্ছিলেন না তাঁরা। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন বিকেলে তানোর উপজেলার বাঁধাইড় ইউনিয়নের জুমারপাড়া এলাকার আবুল হাসানের আমবাগান থেকে তাঁর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক জানান, শহীদুল্লাহ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পীর ইমাম মেহেদী ওয়াকফ স্টেট তরিকার মুরিদ ছিলেন। প্রায়ই তাঁর বাড়িতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পীরের মুরিদরা আসতেন। শহীদুল্লাহও মাঝেমধ্যে ভক্তদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন। এখন হত্যাকাণ্ডের পেছনে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
ওসি আরো জানান, পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে শাহজাহান ও পিয়ার আলীর সঙ্গে ১০ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল শহীদুল্লাহর। ওসি বলেন, পীরের মুরিদ হওয়া কিংবা জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এ দুটি বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শ. ম সাজু, রাজশাহী