মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সমালোচনা করলেন বাদশা
‘বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাকের ওপর আঙুল তুলে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। এ অধিকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে কেউ দেয়নি।’
আজ মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘যেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত দেখা করেন, সেদিন আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমার আগে বার্নিকাট বেরিয়েছেন। আমি দেখেছি, আঙুল উঁচু করে তিনি কথা বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাকের সামনে। আমেরিকাকে আমরা সেই অধিকার দিই নাই। যারা মুক্তিযুদ্ধের শত্রু, বিরোধিতাকারী তাদের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাকের ওপরে আঙুল তুলে কথা বলার অধিকার কেউ দেয় নাই।’
মহাসমাবেশে ফজলে হোসেন বাদশা আরো বলেন, ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পৃথিবীতে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে। এখন এশিয়াকে তারা টার্গেট করেছে। কারণ, এশিয়া তাদের চ্যালেঞ্জ করতে চলেছে। আমরা এখন অর্থনৈতিকভাবে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল নই। অতএব, আগামীতে আমরা সামরিকভাবেও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল থাকব না। আজকে আণবিক বোমা যদি উত্তর কোরিয়া তৈরি করতে পারে, তাহলে ভুটানও তৈরি করতে পারে। অতএব, এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’
মহাসমাবেশে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল বলেন, ‘অধ্যাপক রেজাউল করিমের হত্যার পর আমরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলতে দেখেছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যদি সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা দেওয়া হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা মানেই একটি আফগানিস্তান বানানো, ইরাক বানানো, লিবিয়া বানানো। আমরা বাংলাদেশকে তা হতে দেব না।’
গত ২৩ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টানা ১১তম দিনের মতো কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রাবি সংবাদদাতা