পুলিশের কাজ পুলিশ করছে না
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক রাজশাহী চেম্বারের সাবেক প্রশাসক জিয়াউল হক টুকু ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ড এবং নগরীর এম রায় জুয়েলার্সে ডাকাতির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা।
আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে দেড় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
একই সঙ্গে অবিলম্বে চেম্বারের সাবেক প্রশাসক জিয়াউল হক টুকু ও রাবির অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যা এবং ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র রাজশাহী মহানগর কমিটি যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, ছাত্র ছাড়াও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে বক্তারা আওয়ামী লীগ নেতা টুকুসহ সব হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। আর তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা রাজশাহীর নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, শান্তির শহর রাজশাহীতে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে কাজ করতে হবে। পুলিশ অপরাধীদের না ধরে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করার কারণেই রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আজ নাজুক অবস্থায় পরিণত হয়েছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা বলেন, অপরাধীরা অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। মাঝখানে অনেক সময় রাজশাহীতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয় নানাভাবে। এমনকি ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এর ফলে রাজশাহীতে একের পর এক খুন-খারাবি থেকে শুরু করে ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটছে। এসবই হচ্ছে পুলিশের নাকের ডগায়। কিন্তু পুলিশ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারছে না।
বক্তারা বলেন, জিয়াউল হক টুকুকে তাঁর নিজ চেম্বারে গুলি করে হত্যা করে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে চলে গেল। কিন্তু পুলিশ তাদের আজও খুঁজে পায়নি। তাঁর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এটি না হলে অপরাধীদের হাত আরো লম্বা হয়ে যাবে। রাজশাহীর পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হবে।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুর হাসান মিঠু, কৃষক লীগ নেতা রবিউল ইসলাম বাবু, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহফুজুল আলম লোটন, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, সাংবাদিক হাসান মিল্লাত, সাম্যবাদী দলের মাসুদ রানা, আইন সহায়তা কেন্দ্র রাজশাহী নগরীর সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব আলী তালুকদার, রাসিকের কাউন্সিলর আবদুল হামিদ সরকার টেকন, জেলা লোকমোর্চার সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আল আজাদ, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মামুন-অর-রশিদ, নিহত জিয়াউল হক টুকুর ভাই আজমল হক সাচ্চু, রাজশাহী চেম্বার পরিচালক আতিকুর রহমান কালু, ব্যবসায়ী নেতা এম শরিফ, রাজশাহী মহানগর রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ আহমেদ খান, ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শওকত জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, নগর যুবমৈত্রীর নেতা শাহীন শেখ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের নেতা রানা, রায়হান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, অবিলম্বে রাজশাহীর সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিতে হবে। আগামী সাতদিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এ সময় বক্তারা রাজশাহীর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষানগরীর শান্তি ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
গত ২৪ এপ্রিল নিজ চেম্বারে খুন হন রাজশাহী চেম্বারের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক জিয়াউল হক টুকু। এর আগের দিন নগরীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার নগরের গণকপাড়া মোড়ে এম রায় মোড়ে জুয়েলার্সের শোরুমে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নগরবাসী ও ব্যবসায়ীরা উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

শ. ম সাজু, রাজশাহী