রাজশাহীর তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে
রাজশাহীতে গরম আরো বেড়েছে। প্রতিদিনই ওপরে উঠছে তাপমাত্রার ব্যারোমিটার। তাপমাত্রা অতিক্রম করেছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শুক্রবার দুপুর ৩টায় রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ২৪ শতাংশ। তাপমাত্রার এই ঊর্ধ্বগতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ তেমন একটা বাইরে বের হচ্ছে না। দুপুরের দিকে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে নগরীর রাস্তা।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই রাজশাহীর তাপমাত্রা বাড়ছে। আজ এখানকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল এখানকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরিসংখ্যান মতে, রাজশাহীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৭২ সালের ১৮ মে। ওই দিন তাপমাত্রার পারদ ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল।
শহীদুল ইসলাম আরো জানান, আজ সকাল ৬টায় দিনের শুরু হয় ২৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে। ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। তবে দুপুর ৩টায় তাপমাত্রা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করে। ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলেও সে সময় বাতাসের আর্দ্রতা খুবই কম থাকায় তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো।
এদিকে ২৩ দিন ধরে রাজশাহীতে বৃষ্টি হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল রাজশাহীতে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়েছিল। দিনের পর দিন বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে তাপমাত্রার পারদ শুধু উঠছেই। বৃষ্টির কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবল বর্ষণ এবং কালবৈশাখীর মতো ঝড় তাপমাত্রা কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনতে পারে। তবে আগামী অন্তত দুই সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
অসহনীয় এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়ে বৃষ্টির জন্য গত বৃহস্পতিবার সকালে নফল নামাজ আদায় করেছেন নগরবাসী।
কেন বৃষ্টি হচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে আবহাওয়াবিদরা জানান, বাতাসে জলীয় বাষ্প একেবারেই কম। শুষ্ক এলাকা থেকে বাতাস আসছে বলে জলীয় বাষ্প আনতে পারছে না। ফলে আকাশে মেঘ জমছে না, ঝরছে না বৃষ্টিও।
এদিকে বৃষ্টি না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলের আমের। অনাবৃষ্টিতে অনেক গাছের আম ঝরে পড়ছে। তৃষ্ণার্ত মানুষ একটু প্রশান্তি পেতে রাস্তার পাশে খোলামেলা শরবতসহ নানা পানীয় পান করে আক্রান্ত হচ্ছেন নানা রোগে। প্রতিদিনই এসব রোগী চিকিৎসা নিতে ভিড় করছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।

শ. ম সাজু, রাজশাহী