সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০
ফরিদপুরের সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে হাচান সর্দার (৫৫) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রংরায়েরকান্দি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত হাচান সর্দার পার্শ্ববর্তী রাঙ্গারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় উভয় দলের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাঙ্গারদিয়া গ্রামের জালাল খা, বাবলু খা ও হাচান সর্দারসহ বেশ কিছু লোকজন কয়েক দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাফর মোল্যার দল ত্যাগ করে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান বাবু মোল্যার সঙ্গে যোগ দেন। এই যোগ দেওয়া নিয়ে জাফর মোল্যার লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
আজ বৃহস্পতিবার দপুরে বাবু মোল্যার সমর্থক মুকা মাতুব্বার লোকাল বাসের ধাক্কায় আহত হন। বাবু মোল্যার লোকজন বাসটিকে আটকানোর চেষ্টা করলে জাফর মোল্যার লোকজন যাত্রীবাহী বাসটি ছেড়ে দেয়। এরপর উভয় দলের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে বাবু মোল্যার সমর্থক হাচান সর্দার ভ্যান নিয়ে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজনের সামনে পড়ে যায়। তখন প্রতিপক্ষের লোকজন হাচান সর্দারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এরই সূত্রধরে রাঙ্গারদিয়া, জোগারদিয়া, সোনাপুর ও খারদিয়া এলাকার উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা, সড়কি-ভেলা, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে দফায় দফায় ২ ঘণ্টাব্যাপী চলে এ সংঘর্ষ। সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সংঘর্ষে উভয় দলের অন্তত ১০ জন আহত হয়।
আহতদের নগরকান্দা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. শামছুল হক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ডি.এম বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘লোকাল যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুকা মাতুব্বারের দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে হাচানের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনার পর উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহত হাচানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর