পুনঃময়নাতদন্তের জন্য নারীর লাশ উত্তোলন
ফরিদপুরে শ্বশুরবাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার হওয়া আইরিন নাহার সুমি নামে এক নারীর মৃতদেহ দাফনের পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আজ রোববার ভাঙা উপজেলার উচাবাড়ি গ্রামের কবরস্থান থেকে সুমির লাশ উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
আজ সকালে নির্বাহী হাকিম মো. আসাদুজ্জামান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক সৌমেন মৈত্র ও স্থানীয় তুজারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ রশিদ উপস্থিত থেকে সুমির লাশ উত্তোলন করেন।
নির্বাহী হাকিম মো. আসাদুজ্জামান জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শ্বশুরবাড়ির উঠান থেকে সুমির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলে সন্তুষ্ট হননি সুমির বাবা ও মামলার বাদী মো. গোলজার হোসেন। তাঁর করা পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সুমির লাশের পুনঃময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। এ কারণে লাশ উত্তোলন করে পুনরায় সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সুমিকে যৌতুকের দাবিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। আজ সকালে তারা উচাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন করে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।
সুমির পরিবার জানিয়েছে, একাধিকবার যৌতুকের দাবি মেটালেও হত্যার কিছুদিন আগে ফের যৌতুক দাবি করেন সুমির স্বামী মাহাবুব শেখ। যৌতুকের দাবি মেটাতে দেরি হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় সুমির বাবা মো. গোলজার হোসেন বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলে তিনি (বাদী) সন্তুষ্ট না হওয়ায় পুনরায় তদন্তের দাবি জানান আদালতে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর