খুলনা বিভাগে জেএমবির অস্তিত্ব নেই : ডিআইজি
খুলনা বিভাগে জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) অথবা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতো কোনো সহিংস গ্রুপের অস্তিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মনির-উজ-জামান। তিনি বলেন, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে পুলিশ তা প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকার জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছে।
আজ বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে ১০ জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি বলেন, ‘খুলনা বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক ভালো।’ একটি সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রামে গ্রামে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই নির্বাচনে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
এস এম মনির-উজ-জামান বলেন, ‘নির্বাচন-পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনাকে বরদাশত করা হবে না। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রচারে বাধা ও মাইক ভাঙচুরের মতো ছোটখাটো অপরাধ দমনেও পুলিশ কাজ করছে।
মাদকরোধে পুলিশের কঠোর ভূমিকা অব্যাহত আছে উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, ‘এটি একটি কঠিন সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে পুলিশের সঙ্গে সুশীলসমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে।’
২০১৩-২০১৪ সালের সহিংস পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে উল্লেখ করে মনির-উজ-জামান বলেন, ‘সাতক্ষীরা বাংলাদেশের অন্যতম মডেল জেলায় পরিণত হয়েছে।’ সম্মেলনে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
বিভাগীয় সম্মেলনে খুলনার অতিরিক্ত ডিআইজি একরামুল হাবিব, সাতক্ষীরার এসপি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির, খুলনার হাবিবুর রহমান, বাগেরহাটের নিজামুল হক মোল্লা, মেহেরপুরের মো. হামিদুল আলম, কুষ্টিয়ার প্রলয় চিসিম, ঝিনাইদহের আলতাফ হোসেন, নড়াইলের সরদার রকিবুল ইসলাম, মাগুরার এ কে এম এহসানউল্লাহ, যশোরের মো. আনিসুর রহমান ও চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মো. রাশিদুল হাসান এবং আরআরএফ কমান্ড্যান্ট আলী আহমেদ খানসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা