মাহমুদুল ইসলামের প্রথম জানাজা সুপ্রিম কোর্টে
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলামের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি ও আইনজীবীরা অংশ নেন। এর পর গ্রামের বাড়ি রংপুরে তাঁকে নেওয়া হচ্ছে। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হবে।
জানাজা শেষে মাহমুদুল ইসলামের মরদেহে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম।
মাহমুদুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সকালে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম (হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ) কমিয়ে আনা হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে আপিল বিভাগের কার্যক্রম এবং দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম।
গত সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহমুদুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও কিডনির সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন মাহমুদুল ইসলাম। তাঁর দুই ছেলে আসিফ ইসলাম ও আরিফ ইসলাম পেশায় প্রকৌশলী। তাঁরা দুজনেই কানাডায় ছিলেন। তাঁরা আজ দেশে ফিরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
বিশিষ্ট এ আইনজীবী ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করেন। মাহমুদুল ইসলাম সাংবিধানিক গবেষণামূলক বই লিখেছেন। সংবিধান বিষয়ে তাঁর লেখা বই হচ্ছে ‘কনস্টিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ’, ‘ল অব সিভিল প্রসিডিউর’ ও ‘ইন্টারপ্রিটেশন অব স্ট্যাটিউটস অ্যান্ড ডকুমেন্ট।
বাংলাদেশে আইন পেশায় পণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন। সংবিধান-সংক্রান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের আহ্বানে মাহমুদুল ইসলাম অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বহু মত পেশ করেছেন।
১৯৩৬ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন মাহমুদুল ইসলাম। কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে আইনের ওপর ডিগ্রি নেন। তাঁর বাবা আজিজুল ইসলামও ছিলেন রংপুরের প্রথিতযশা আইনজীবী। মাহমুদুল ইসলাম প্রথমে রংপুর জেলা বারে আইন পেশা শুরু করার পর হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবাণীতে তাঁরা বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীকে হারাল। তাঁর মৃত্যু দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং এ ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক