আ.লীগের প্রার্থী বাছাই সভায় সংঘর্ষ, আহত ১০
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় যাত্রাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে ১০ জন।
এ সময় সভামঞ্চ ও টেবিল-চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাকেন্দা খানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়। বর্ধিত সভায় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিন্টু বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল গফুরের সমর্থকরা জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সামনে লাঠিসোটা নিয়ে সভাস্থলে হামলা চালায়। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয় এবং সভাস্থলের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয়।
পরে উপস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে যাত্রাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, ‘যাত্রাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের এক নেতা সভায় আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যাপারে বক্তব্য রাখায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে আমি জড়িত নই।’
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন চিনু বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে বর্ধিত সভার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী বাছাই করে আসছি। এ বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উপজেলা আওয়ামী লীগকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও একটি মহলের উসকানিতে এ ঘটনা ঘটেছে।’
আগামী ২২ মার্চ প্রথম পর্যায়ে ৭৫২টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ করা হবে। সারা দেশে চার হাজার ৫৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে চার হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদের। ছয়টি ধাপে এগুলোতে নির্বাচন করবে কমিশন।
এই প্রথমবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে শুধু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। কোনো রাজনৈতিক দল কোনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না।
এ নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নের জন্য জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এবং যে ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী বোর্ড গঠিত হবে। ইউনিয়ন কমিটি ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের সঙ্গে বর্ধিত সভা করে একজন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে।
সেই সুপারিশকৃত নাম উল্লিখিত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী বোর্ড (ছয়জনের নাম ও স্বাক্ষর) প্রার্থী চূড়ান্ত করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠাবে।

হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম