বন বিভাগের দুই ক্যাম্প আবার চালুর উদ্যোগ
সুন্দরবনে ডাকাত আর বনদস্যুদের উপদ্রবের বিষয়টি নতুন নয়। তবে এই উপদ্রবের কারণে বন বিভাগের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়া রীতিমতো ভীতিকর।
বনের ভেতর দুর্গম এলাকায় জেলে-বাওয়ালিদের ওপর তো ডাকাত বা বনদস্যুদের হামলা চলতই। বাদ যেতেন না বনপ্রহরীরাও। গভীর বনে স্থাপিত বন বিভাগের ক্যাম্পগুলোতে প্রায়ই হামলা, মারধর ও লুটপাট চালাত বনদস্যুরা। আর এ হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ করে দিতে হয়েছে গভীর সুন্দরবন রক্ষায় নিয়োজিত দুটি ক্যাম্প।
নিরাপত্তার অভাবে প্রায় অর্ধযুগ ধরে বন্ধ রয়েছে মৃগামারী ও ঝাপসি নামে দুটি ক্যাম্প। তবে এখন বনজ সম্পদ রক্ষায় ক্যাম্প দুটি চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে বন বিভাগ।
বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বিশাল সুন্দরবনের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়ায় ডজনখানেক সশস্ত্র দস্যু বাহিনী। এ দস্যু বাহিনীগুলো বন ছাড়াও ডাকাতি চালিয়ে থাকে গভীর সাগরেও। সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে তখন তাদের অবাধ বিচরণ থাকে শুধু সুন্দরবনে। সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে জেলেদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালায় দস্যুরা। আর দস্যুদের এ হামলা থেকে বাদ পড়েন না বন বিভাগের সদস্যরাও।
দস্যুদের কথামতো কাজ না করলে তাদের হাতে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাঞ্ছিত হন প্রায়ই। গত কয়েক বছরে দোবেকি, কাগাবগাসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে বনপ্রহরীদের কাছে থাকা অস্ত্র লুটে নিয়েছে দস্যুরা। এমন অত্যাচারের ধারাবাহিকতায় প্রায় ছয় বছর আগে মংলার পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগামারী ও ঝাপসি নামের দুটি ক্যাম্প বন্ধ করে দেয় বন বিভাগ। সেই থেকে বন্ধ রয়েছে ক্যাম্প দুটি। গভীর জঙ্গলে পরিত্যক্তভাবে পড়ে রয়েছে বন বিভাগের নির্মিত এ দুটি ক্যাম্প অফিস।
তবে বন্য প্রাণী ও সম্পদ রক্ষায় বর্তমানে ক্যাম্প দুটি আবারো চালুর চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানায় সূত্রটি।
এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সুন্দরবনের বনজ, প্রাণিজ, মৎস্যসহ অফুরন্ত সম্পদ রক্ষায় বর্তমানে ক্যাম্প দুটি চালু করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে শিগগিরই বন্ধ থাকা ক্যাম্পদুটি চালুর ব্যবস্থা করবেন।’
ক্যাম্প দুটি চালু করা হলে এবার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা জানতে চাইলে এই বন কর্মকর্তা জানান, কাছাকাছি অবস্থিত ক্যাম্পগুলোর সহায়তা নিয়ে এবং ক্যাম্পগুলোর লোকবল বাড়িয়ে এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা