সিলিন্ডারে গ্যাস কম, টোটাল গ্যাসকে জরিমানা
ওজনে কম গ্যাস সরবরাহ করে বাজারজাত করার দায়ে চট্টগ্রামের টোটাল গ্যাস প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার একই সঙ্গে গত এক সপ্তাহে নগরীর ১১টি বেসরকারি ক্লিনিক, ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান, মিষ্টি তৈরির কারখানা ও ফিলিং স্টেশন থেকে এক কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনফোর্সমেন্ট) সরওয়ার আলম জানান, বৃহস্পতিবার সীতাকুন্ডে অবস্থিত প্রিমিয়ার এলপি গ্যাস কোম্পানির ‘টোটাল গ্যাসে’ ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের সঠিক মাপের গ্যাস পাওয়া যায়নি। প্রতিটি সিলিন্ডারে সর্বোচ্চ এক কেজি পর্যন্ত গ্যাস কম সরবরাহ করে বাজারজাত করছে তারা।
সরওয়ার আলম আরো জানান, ব্যাপারটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭ আগেই জানতে পারে। তিনিসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছিলেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) প্রকৌশলী মাহমুদুল হাছান রানা, স্কোয়াড্রন লিডার এস জে ফাহিম ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জালাল উদ্দিন আহম্মদ। প্রিমিয়ার এলপির সিলিন্ডারে গ্যাস কম থাকায় প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সবুর হোসেনকে ভোক্তা অধিকার আইনে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে নগরীর ১১টি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সময়ে দেশের অভিজাত মিষ্টি তৈরির প্রতিষ্ঠান বনফুল ও মধুবনকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরো জানান, বনফুলের মিষ্টি তৈরির কারখানায় গভীর রাতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গিয়ে দেখা যায় ব্যবহৃত মিষ্টির সিরা দিয়ে পুনরায় মিষ্টি তৈরি করছে বলে জানান তিনি। একই অভিযোগে মুরাদপুর মধুবন কারাখানাকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বনফুল ও মধুবন তাদের খাদ্য পণ্য তৈরিতে ক্ষতিকর ঘন চিনি ব্যবহার এবং শ্রমিকরা পা দিয়ে ছানা তৈরির কাজ করছিলেন।
এ ছাড়া নগরীর ফার্মিক ল্যাবরেটরিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারখানার মান উন্নত, তদারকি বাড়ানোর শর্ত দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ কারখানায় মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধসহ কয়েকটি অনিয়মের দায়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম