কলারোয়ায় নৌকা হেরেছে সভাপতির কারণে
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌর মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত পরাজিত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লাল্টু অভিযোগ করেছেন, উপজেলা সভাপতি নৌকার বিরোধিতা করে বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করেছেন।
লাল্টু বলেন, কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাবেক আহ্বায়ক সাজেদুর রহমান খান চৌধুরী ও পৌর সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম নৌকা প্রতীককে হারাতে পৃথক কমিটিও গঠন করেন।
শনিবার রাতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম লাল্টু এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁর দলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে থাকেন।
কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু অভিযোগ করে বলেন, ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে ফিরোজ আহমেদ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এবারও তিনি নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় তাঁর বহিষ্কার দাবি করেন লাল্টু।
লাল্টু তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ আনেন দলের সাবেক আহ্বায়ক সাজেদুর রহমান খান চৌধুরী মজনুর বিরুদ্ধে। লাল্টু জানান, তাঁকে কেন্দ্র মনোনয়ন দেওয়ায় মজনু চৌধুরী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, দল এবং নৌকা প্রতীক সম্পর্কেও প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন।
নির্বাচনে হার মেনে নিয়ে লাল্টু বলেন, ‘দলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদকে আমার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয় জেলা কমিটি। অথচ তিনি আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে নৌকা প্রতীক সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে আমাকে হারিয়ে দিয়েছেন।’
লাল্টু চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে সর্বনিম্ন তিন হাজার ৬৩৫ ভোট পেয়ে বিএনপিদলীয় প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।
লাল্টু আরো জানান, এ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন ফিরোজ আহমেদের শ্যালক মনিরুজ্জামান বুলবুল। তিনি তাঁকে প্যানেল মেয়র বানাতে বিএনপির প্রার্থী আক্তারুল ইসলামকে জয়ী করিয়েছেন বলে দাবি করেন লাল্টু।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের পরাজিত মেয়র প্রার্থী বলেন, নতুন মেয়র শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় যে কোনো সময় জেলে যাবেন। তাই ফিরোজ তাঁর শ্যালককে প্যানেল মেয়র বানিয়ে সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লাল্টু আরো বলেন, দলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে হুমকিধমকি দিয়েছিলেন। তাঁদের নৌকার বিপক্ষে কাজ করাতে বাধ্য করান। যাঁরা তাঁর কথা শোনেননি, তাঁদের ওপর দলীয় লোকজন দিয়ে এখনো নির্যাতন চালাচ্ছেন তিনি। এমন কয়েকজন কর্মীর নামও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কলারোয়ার দুই ইউপি চেয়ারম্যান ভুট্টো লাল গাইন ও আবুল কালাম, ছাত্রলীগের সভাপতি এমরান হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তী, আনোয়ারুল ইসলাম, মারুফ হোসেন, নুরুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা