বহিরাগত মাস্তান এনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আ.লীগ প্রার্থীর
বরগুনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ অভিযোগ করেছেন, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী কাঁড়ি কাঁড়ি অবৈধ টাকার মালিক হয়ে সেই টাকা দিয়ে বহিরাগত ক্যাডার ভাড়া করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ।
মেয়র পদপ্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ অভিযোগ করেন, বর্তমান মেয়র (বিদ্রোহী মেয়র পদপ্রার্থী) মো. শাহাদাত হোসেন ও তাঁর ভাড়াটে কর্মী-সমর্থকরা সোমবার সন্ধ্যা থেকে দফায় দফায় তাঁর তিনটি অফিস ভাঙচুর করেছেন। ভাঙচুর করেছেন নৌকা প্রতীকসহ শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবিও।
মহারাজ বলেন, শাহাদাত হোসেন মেয়র থাকার সময়ে অবৈধ টাকার পাহাড় বানিয়ে সেই টাকা দিয়ে এখন বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। শাহাদাতের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বলেন, যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচনকে বানচাল করার নীলনকশা করে যাচ্ছেন শাহাদাত হোসেন।
মহারাজ বলেন, ছাত্রজীবন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন। সমান সক্রিয় ছিলেন তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও। কখনো কোনো পদের জন্য তিনি লোভাতুর ছিলেন না। দীর্ঘদিন তিনি শুধু আইন পেশার মাধ্যমে তাঁর সংসার জীবন পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ থেকে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মহারাজ বলেন, দল তাঁকে মূল্যায়ন করেছে। তাই নির্বাচিত হতে পারলে তিনি দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তাঁর সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা দিয়ে বরগুনা পৌরসভা তথা বাংলাদেশের উন্নয়নে সরাসরি কাজ করে যাবেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মো. শাহাদাত হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পরে তাঁর একটি পথসভায় হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ অর্ধশত কর্মী ও সমর্থককে আহত করেছে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে মিতুল ও জামাতা আরিফ খানসহ একাধিক নারী ও শিশু গুরুতর আহত হয়।
শাহাদাত হোসেন আরো জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন। বর্তমানেও তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকেই মনোনীত হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার তাঁকে ষড়যন্ত্র করে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
শাহাদাত বলেন, শুরু থেকেই তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।

সোহেল হাফিজ, বরগুনা