ব্যথা বাঁ কানে, চিকিৎসা ডানে
বাঁ কানের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন শিক্ষানবিশ এক সেবিকা। একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজেকে চিকিৎসক দাবি করে তাঁর ডান কানে চিকিৎসা করেন। এতে ডান কানের পর্দা ফেটে কিছুই শুনতে পারছেন না ওই সেবিকা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার হাইকেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় লিমা আক্তার (৩৩) নামের ওই সেবিকা গত শনিবার হাইকেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন। আজ দুপুরে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে লিমা আক্তার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
লিমা আক্তার জানান, প্রায় আট বছর কুয়েত ও জর্দানে কাজ শেষে ৯ মাস আগে দেশে ফিরেন তিনি। এরপর মানিকগঞ্জ শহরের আয়েশা রহমান হাসপাতালে শিক্ষানবিশ সেবিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাঁ কানে পোকা ঢুকলে যন্ত্রণা শুরু হয়। কর্মরত হাসপাতালে এ ধরনের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় রাতেই তিনি হাইকেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে যান। এ সময় শহিদুল ইসলাম নিজেকে চিকিৎসক পরিচয়ে বাঁ কানে সমস্যা নেই বলে সাকার যন্ত্র দিয়ে তাঁর ডান কানে চিকিৎসা দেন। শহিদুল পাঁচদিনের ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন তাঁকে। এরপর থেকেই তিনি ওই কানে শুনতে পাচ্ছেন না। প্রচণ্ড যন্ত্রণা হওয়ায় তিনি মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান। সাকার যন্ত্রের ভুল চিকিৎসায় তাঁর ডান কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে চিকিৎসক নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় শহিদুলের বিরুদ্ধে শনিবার বিকেলে সদর থানায় মামলা করেছেন বলেও জানান লিমা।
যোগাযোগ করা হলে লিমাকে সাকার যন্ত্র দিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন শহিদুল ইসলাম। তিনি নিজেকে ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক দাবি করে জানান, লিমার বাঁ কানে কোনো সমস্যা ছিল না। তাঁর ডান কানে ইনফেকশন হওয়ায় সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মানিকগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবদুল মালেক জানান, ডিপ্লোমাধারী কেউ এভাবে রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারেন না। শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ ধরনের রোগীকে চিকিৎসা দিতে পারেন।
মানিকগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ইউসুফ হায়দার জানান, হাই কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে লিমাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ায় তাঁর ডান কানের পর্দা ফেটে গেছে। এখন লিমাকে দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসা নিতে হবে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক ফরিদ আহম্মেদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ