স্বামীকেই বিয়ে পাঁচ সন্তানের জননীর!
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে আবার বিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় মাতব্বররা। গতকাল শুক্রবার রাতে এক সালিশি বৈঠকের পর এ ঘটনা ঘটে।
ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরকীয়া সম্পর্কের পর স্বামীর কাছে ফিরে আসায় সমাজপতিরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে আবার বিয়ে দিয়েছেন।
ওই নারী এনটিভি অনলাইনকে জানান, তাঁর স্বামী আসবাবপত্র শ্রমিক। তাঁদের এক ছেলে, চার মেয়ে আছে। দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিরা লেখাপড়া করছে। তিন বছর আগে তাঁর সঙ্গে মেয়ের জামাই বাড়ির সম্পর্কের এক আত্মীয়র পরকীয়া শুরু হয়। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁর প্রেমিককে ধরে মারধর করলে তাঁরা ঢাকার সাভার এলাকায় পালিয়ে গিয়ে বাসা নিয়ে থাকেন। বিয়ে না করে কিছুদিন পর সেখানে তাঁকে রেখে বাড়ি চলে যান প্রেমিক। তখন নিরুপায় হয়ে সেখানকার একটি কারখানায় কাজ নেন তিনি।
ওই নারী আরো জানান, গত কোরবানির ঈদের পর তিনি সাভার থেকে বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর মেয়েরা ও মেয়ের জামাই মিলে চারদিন আগে তাঁকে স্বামীর বাড়ি ফিরিয়ে আনেন।
ওই নারীর এক মেয়ের জামাই জানান, তাঁর শ্বশুর শাশুড়িকে গ্রহণ করলেও সমাজের এক মাতব্বর এ নিয়ে সালিশি বৈঠক ডাকেন। ওই সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে তওবা পড়ানো হয়। পরে ১০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে কালেমা পড়িয়ে তাঁদের আবার বিয়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে ওই মাতব্বরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ওই গ্রামের ১২০টি পরিবার নিয়ে গঠিত সমাজের মাতব্বর তিনি। ওই দম্পতির বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য এবং সর্বস্তরের লোকজন নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসে আলোচনা করা হয়। এ ঘটনায় আইন ও ধর্মীয় রীতিতে করণীয় সম্পর্কে কাজীর মতামত নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁদের দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি জানতে স্থানীয় উথলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি ৷
জানতে চাইলে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ