শোলাকিয়া প্রস্তুত, দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা
দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে ঈদ-উল-আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। জামাত পরিচালনা করবেন মাঠের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।
১৮২৮ সনে নরসুন্দা নদীর তীরে সাত একর আয়তন বিশিষ্ট শোলাকিয়া ময়দানে অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতের হিসাবে এবারের জামাত হবে ১৮৮তম ঈদ জামাত।
জেলার দূর-দূরান্তসহ অন্যান্য জেলা থেকেও বিপুল মুসল্লি শোলাকিয়া জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ঈদ জামাতে আগত মুসল্লিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একটি ট্রেন ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং অপর ট্রেনটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।
সুষ্ঠুভাবে জামাত অনুষ্ঠানের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এস এম জাফরউল্লাহ।
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খাঁ বাহাদুর কিশোরগঞ্জের জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজি ১৮২৮ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর এ ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। এ হিসাবে আসন্ন ঈদুল আজহার জামাতটি হবে ১৮৮তম ঈদের জামাত।
কথিত আছে, প্রথম অনুষ্ঠিত জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন বলে মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখি মাঠ’। সেখান থেকে উচ্চারণের বিবর্তনে পরিণত হয়ে নাম ধারণ করেছে আজকের শোলাকিয়া মাঠ।
বিশাল এই মাঠের মধ্যে মোট কাতার রয়েছে ২৬৫টি। প্রতি কাতারে পাঁচ শতাধিক মুসল্লি নামাজে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
এদিকে বরাবরের মতো এবারও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নারীদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জেলা শহরের এস ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৯টায় নারীদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া জেলা শহরের বৃহত্তম জামে মসজিদ শহীদি মসজিদে সকাল ৮টায়, পাগলা মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় এবং পুরান কাচারী জামে মসজিদ, আখড়া বাজার জামে মসজিদ ও নূর মসজিদে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

মারুফ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ