সন্তান জন্মের পর মায়ের মৃত্যু, আড়াই লাখে আপস
ফরিদপুরের একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতকের জন্মের পর এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর আড়াই লাখ টাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপস করেছেন মৃতের স্বজনরা।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় বোয়ালমারী পৌর সদরের মোল্যা আহম্মেদ হোসেন মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের মো. মামুন মোল্যার স্ত্রী সোহাগী বেগমকে (১৮) গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মোল্যা আহম্মেদ হোসেন মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৯টায় সোহাগীর অস্ত্রোপচার করেন ডা. তাপস বিশ্বাস। সোহাগী একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর পরই মারা যান। মৃত্যুর খবর শুনে তাঁর স্বজনরা হাসপাতাল ঘেরাও করে।
এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তা নেয়। পরে তাদের সঙ্গে আপসে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।
মোল্যা আহম্মেদ হোসেন মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রেজাউল করিম রাজা এনটিভি অনলাইনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আমার আড়াই লাখ টাকার মীমাংসা হয়েছে। পুলিশ, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, চতুল গ্রামের বাবলু শরীফ, আকরামুজ্জামান মৃধা, ছোলনা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুর রহমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মীমাংসা হয়েছে। তাদের নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং দুই লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। বুধবার টাকা নিয়ে চেক ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে।’
রেজাউল করিম আরো বলেন, ‘এ রকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। হঠাৎ করেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এটি নিছকই একটা দুর্ঘটনা। এত বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার পর এখন আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’
মৃত সোহাগী বেগমের অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তারপরও আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মাসুদের (স্থানীয়) মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে মীমাংসায় আসা লোকজন।’
ডা. তাপস বলেন, ‘এত কিছু আপনি জেনে গেলেন কীভাবে? তবে আমরা ডাক্তাররা কখনো কোনো রোগীর মৃত্যু হোক চাই না। এটা হলো কীভাবে, এটাই বুঝতে পারছি না। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও আমি রোগীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ’
বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক মামলার আসামি ধরার জন্য শুকতারা হোটেলের সামনে ছিলাম। ক্লিনিকের সামনে লোকজন দেখে এবং হট্টগোল শুনে ক্লিনিকে গিয়ে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারি। পরিস্থিতি শান্ত হলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলে আসি। এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। মীমাংসার কোনো বিষয় আমার জানা নেই।’
এদিকে, এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। তবে, তিনি কোন গণমাধ্যমে কাজ করেন তা জানা যায়নি। মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর