ফরিদপুরে ভবন ধসে আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ভবন ধসে আহত দুই শিশুর মধ্যে একজন আজ রোববার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছে।
নিহত শিশুর নাম শাহেদ। সে সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলমনগর গ্রামের বাসিন্দা সৌদি আরবপ্রবাসী উজ্জ্বল ফকিরের বড় ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে শাহেদ ছিল সবার বড়। ভবন ধসে আহত অপর শিক্ষার্থী উজ্জ্বল বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।
শাহেদের চাচাতো ভাই স্বপন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘শনিবার রাতেই শাহেদকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নিতে বলেন চিকিৎসকরা। রাতেই আমরা তাকে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে আইসিইউতে সিট না পাওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়ার পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মারা যায় শাহেদ।’
গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সদরপুর উপজেলার লোহারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন জেলা পরিষদের পরিত্যক্ত একটি ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। ওই সময়ে বিদ্যালয়ে টিফিন চলছিল। শিশুরা ভবনে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ ছাদ ধসে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন ধ্বংসাবসের মধ্য থেকে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্র শাহেদ ও উজ্জ্বলকে উদ্ধার করেন। তাদের দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই গুরুতর আহত শাহেদকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

আজ রোববার লোহারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় খোলা থাকলেও শিক্ষার্থী ছিল খুব কম। শাহেদের মৃত্যুর খবর শুনে সহপাঠী, শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষার্থী তার বাড়িতে ভিড় করেছে।
বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শাহেদের মৃত্যুতে আহাজারি করছেন স্বজনরা। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চোখেও ছিল পানি।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূরবী গোলদার বলেন, ধসে পড়া ভবনটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। পাশেই প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাচ্চারা সুযোগ পেলে ওই ভবনে খেলতে যেত। তাই শিশুরাই আহত হয়েছে। ভবন ধসের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে স্থানীয় জনতা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
ইউএনও বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা জেলা প্রশাসন থেকে তদারকি করা হচ্ছে। তিনি জানান, এই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন অনুমোদন হয়ে গেছে, খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
লোহারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহীনুল ইসলাম খান জানান, লোহারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে নির্মিত হলেও ১৯৬৬ সালে জেলা পরিষদ থেকে কমিউনিটি হল নামে এ ভবন নির্মিত হয়। এখানে কোনো ক্লাস নেওয়া হতো না। ২০ বছর ধরে দেয়ালবিহীন কয়েকটি পিলারের ওপর এটি দাঁড়িয়ে ছিল। স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়ে অনেকেই টিফিনের সময় ভবনটির নিচে গিয়ে খেলাধুলা করত। শনিবার দুপুরে হঠাৎ করে বিকট শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহেদ রোববার সকালে মারা যায়।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর