ট্যাবলেট সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি, মরলেন টিপু সুলতান
প্রতিদিনের মতো আজ শনিবার সকালেও যশোর শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকায় নিজের ছোট্ট দোকানে বসে শিঙ্গাড়া ও পুরি তৈরি করে বিক্রি করছিলেন টিপু সুলতান (২২)। এ সময় তাঁর দোকানে বসে ছিলেন স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সোহেল ওরফে ট্যাবলেট সোহেল।
আর এই সোহেলের বসে থাকাই কাল হলো শিঙ্গাড়া বিক্রেতা টিপু সুলতানের। কারণ সেই মুহূর্তে সোহেলকে হত্যা করতে সেখানে আসেন প্রতিপক্ষের দুই সদস্য। মোটরসাইকেলে চড়ে আসা ওই দুই ব্যক্তি গুলি করেন সোহেলকে লক্ষ্য করে। কিন্তু গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিদ্ধ হয় টিপুর বুকে। এই সুযোগে পালিয়ে যান সোহেল। পরে সন্ত্রাসীরাও সেখান থেকে পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন টিপুকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক টিপু সুলতানকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কল্লোল কুমার সাহা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই টিপুর মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি সেখান থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বেলা ৩টার দিকে হাসপাতাল থেকে টিপুর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা। মিছিল নিয়ে টিবি ক্লিনিকের দিকে যাওয়ার পথে স্থানীয় প্রেসক্লাবের ফটকের সামনে লাশ রেখে তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় লাশের পাশে এক নারীর কোলে দেড় বছর বয়সী একটি শিশুসন্তানকে দেখা যায়। শিশুটিকে দেখিয়ে ওই নারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখেন ভাই, এই বাচ্চার এখন কী হবে।’ তবে ওই নারী ও শিশুর বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে সোহেলকে হত্যাচেষ্টা চালানোর পরপরই তাঁর অনুসারীরা বেলা দেড়টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল শহরের ষষ্টীতলা এলাকায় শিশির ও শুভ নামে দুই ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা শিশিরের মা চায়না বেগমকে মারপিট করে। শিশির ও শুভ ট্যাবলেট সোহেলের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত।

সাইফুল ইসলাম সজল, যশোর