নারীশ্রমিককে ধর্ষণ, জব্দ করা হলো বাসটি
চট্টগ্রামে যে চলন্ত বাসে নারী পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণ করা হয়েছিল, সেই বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ নম্বর রুটে চলাচলকারী সিটি সার্ভিস বাসটি জব্দ করে চান্দগাঁও থানার পুলিশ।
এদিকে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেবে বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ব্লাস্টের সমন্বয়কারী রেজাউল করিম চৌধুরী এনটিভিকে বলেন, সমাজে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। সেই অস্থিরতার শিকার কমবেশি সবাই। কখনো শ্রমিকশ্রেণি এই অস্থিরতার শিকার হচ্ছে, আবার কখনো চাকরিজীবীরা। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই চলন্ত বাসে সিনেমার স্টাইলে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
সমাজের পিছিয়ে পড়া বা শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে এই ধরনের অন্যায় হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা বুঝতে পারেন না যে কোথায় গেলে সহায়তা পাওয়া যাবে। সে কারণেই এই ধরনের ঘটনায় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে ব্লাস্ট। এরই অংশ হিসেবে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেবে সংস্থাটি বলে জানান আইনজীবী।
এই ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বাসচালক রাশেদুল ইসলাম ও তাঁর সহকারী ইমতিয়াজের কঠিন শাস্তিও দাবি করেন রেজাউল করিম চৌধুরী।
ওই নারীশ্রমিক ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, নগরীর বিসিক এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন ধর্ষণের শিকার নারী ও তিন বোন। শিশুসহ পাঁচজন গত ২৭ অক্টোবর বন্ধের দিন বেড়াতে যান নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। সেখানে বেড়ানো শেষে সন্ধ্যায় শহর এলাকার ১০ নম্বর রোডের একটি বাসে ওঠেন। বহদ্দারহাটে তিন বোন ও শিশু নেমে যান। আর এক কিলোমিটার পর ওই শ্রমিকেরও বাস থেকে নেমে যাওয়ার কথা। বহদ্দারহাট টার্মিনালে যাওয়ার পর বাসে আর যাত্রী না থাকায় একা মেয়েটির মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেন বাসের চালক ও তাঁর সহকারী।
পরে গত শনিবার অপরাধ স্বীকার করে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নাজমুল হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেন বাসের চালক ও সহকারী।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম