‘নারীর ক্ষমতায়ন উন্নয়নের পূর্বশর্ত’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন উন্নয়নের পূর্বশর্ত। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করলে দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে গতি আসবে। নারীদের ক্ষমতায়ন ব্যতীত রূপকল্প-২০২১ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ বাস্তবায়ন অসম্ভব।’
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে মাঠে ১১তম আন্তর্জাতিক উইমেনস এসএমই এক্সপো শীর্ষক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারীবান্ধব সরকার, নারীদের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মোট শ্রমশক্তি প্রায় ছয় কোটিরও উপরে- যার এক তৃতীয়াংশ মহিলা। এ বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার নারীদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির জন্য অবৈতনিক শিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধ, শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, নারীদের ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে অর্থনৈতিক মুক্তি। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবার ও সমাজে তাদের প্রভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বাড়ে।’
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৭০ লাখেরও অধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশের শ্রম শক্তির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ এ খাতে কাজ করে।’ তিনি নারীদেরকেও এ খাতের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘হস্তশিল্প, বুটিক, পোল্ট্রি, গার্মেন্টস ও কৃষিপণ্যের ব্যবসার মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারেন। সরকার বিনা জামানতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। এ ঋণ নিয়ে আপনারা ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলতে পারেন। তথ্য প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ নিয়ে ফ্রি-ল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন।’
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় শিল্পনীতিতে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দেওয়া হয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়াত্ত ও বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে।’ মন্ত্রী সমবায় সমিতি ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ করে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
নারী উদ্যেক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত, এসএমই পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, প্রচার, আয়বৃদ্ধি, ভোক্তা ও উদ্যেক্তাদের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করার লক্ষ্যে এ মেলা আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় ইরান, ভারতসহ কয়েকটি দেশ অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
মাসব্যাপী এ মেলায় ১৫টি প্যাভিলিয়নে দেশি-বিদেশি নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের ৩০০টি স্টল থাকবে। মেলায় ভারত, পাকিস্তান ও ইরানসহ অন্যান্য দেশের নারী উদ্যোক্তাগণ অংশগ্রহণ করছে।
উইমেনস চেম্বার সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংসদ সদস্য মাঈনুদ্দিন খান বাদল, সাবিহা মুসা, ওয়াসেকা আয়েশা খান,মাহজাবির মোরশেদ, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহাবুল আলম ও উইমেনস মেলা কমিটির আহ্বায়ক কামরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম