খাল দখলমুক্ত ও খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা চসিকের
চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলীর ৫০ ফুট প্রস্থের কাট্টলী খালের অধিকাংশ বেদখল হয়ে গেছে। একই অবস্থা মহেষ খালসহ এর শাখা-প্রশাখার। বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে এসব খালের সংযোগ থাকায় জোয়ারের সময় নগরীতে পানি এসে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়; যা স্থায়ী হয় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব খালের পাশে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ ছাড়াও যে যেভাবে পেরেছেন দখল করেছেন খালের পাড় ও খাল। ফলে এসব খাল এখন মৃতপ্রায় খালে পরিণত হয়েছে। খালগুলোকে আবর্জনা ফেলার জন্যও ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ এসব খাল দিয়ে একসময় চলাচল করত নানা ধরনের নৌযান।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের পাশাপাশি ভরাট হয়ে যাওয়া খাল খনন শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার অভিযানের শুরুতে পাহাড়তলীর দুটি দখল হয়ে যাওয়া খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় নগরীর ৭০টি খালের মধ্যে ৩৮টি ছাড়া বাকি সবগুলোই অবৈধ দখলে চলে গেছে বলে জানান সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
মেয়র বলেন, ‘একসময় প্রায় ৭০টি খাল ছিল। কমতে কমতে সেটা এখন ৩৮টা খালে এসে পৌঁছেছে। অনেকগুলো খালের কোনো অস্তিত্বই নেই, কাগজে কলমে আছে। তো আমরা খালগুলো পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এবং খালগুলো এখানে পরিমাপ হয়েছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সহায়তায় ওয়াসা একটা পরিমাপ করেছে। আমরাও করছি। কার্যক্রমটা চলমান আছে। খালের সীমানা নির্ধারণ করে খালপাড়ে যারা অবৈধভাবে অবস্থান করবে তার পরিচয় যাই হোক, আমার কাছে সেইটা কোনো বিবেচ্য বিষয় না। আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় হলো তার অবস্থানটা বৈধ না অবৈধ? অবৈধ হলে আমরা সেটা উচ্ছেদ করব।’
যতদিন প্রয়োজন ততদিন এই অভিযান চলবে বলেও জানান মেয়র। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মহেষ খাল ও এর শাখা খালগুলোর উভয় পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দখল হয়ে যাওয়া খাল উচ্ছেদের পর খনন করা হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা তাঁর।
আজকের অভিযানে সিটি মেয়র ছাড়াও সিটি করপোরেশনের দুজন ম্যাজিস্ট্রেট, স্থানীয় কাউন্সিলরসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম