চুক্তিবিরোধীদের জামাই আদরে রেখেছে সরকার : সন্তু লারমা
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চুক্তি হলেও এর বিরোধীদের সরকার জামাই আদর করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
আজ শনিবার জনসংহতি সমিতির ছাত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে এসব কথা বলেন সন্তু লারমা। জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সন্তু লারমা বলেন, জনসংহতি সমিতি এখনো স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লড়াই করে যাচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার ও সেনাবাহিনী এই লড়াইকে ‘সন্ত্রাসী’ নামে আখ্যায়িত করে আন্দোলন ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চুক্তি হয়েছে। কিন্তু যারা চুক্তিবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীল তাদের শেখ হাসিনার সরকার এখন জামাই আদরে রেখে দিয়েছে।
সন্তু লারমা বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় জুম্ম জনগণের বুকে যে ক্ষোভ আছে, তা একদিন বেরিয়ে আসবে। আমাদের আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, শাসকগোষ্ঠী আমাদের ওপর যে শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চাইছে, তা কি আমরা মেনে নেব, নাকি আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করব। সুবিধাবাদীদের ষড়যন্ত্রের কারণে পাহাড়ে জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ১৯ বছর পরও তা পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। এতে করে চুক্তিবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র বিস্তার করায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আবারও জটিল আকার ধারণ করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বাচ্চু চাকমা। বক্তব্য দেন এম এন লারমা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম টনক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মাহিম, বসুমিত্র চাকমা, সাহিত্যিক শিশির চাকমা, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানি শুভ, ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি নাসির উদ্দিন প্রিন্স, যুব সমিতির জেলা সভাপতি টোয়েন চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি চন্দ্রা ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুমন মারমা।
আজ বিকেলে গণসংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। আগামীকাল রোববার প্রতিনিধি সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি