দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিএনপির কর্মিসভা পণ্ড
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মিসভা পণ্ড হয়ে গেছে। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল হকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার দুপুরে পটিয়া সদর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহাজান জুয়েল ও সহসভাপতি এনামুল হক পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ২০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে যাওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন সভাস্থলে প্রবেশ করতে পারেননি। সংঘর্ষের সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর আড়াইটার দিকে এনামুল হক মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেওয়ার সময় গেটে থাকা প্রতিপক্ষের কর্মীদের হামলায় শিকার হন। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন এনামুল হকসহ ৩০ জন নেতাকর্মী। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এতে বিএনপি নেতা এনামুল হকের বুক ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। পরে নেতাকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে নগরীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এনামুল হক এ ঘটনার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাজান জুয়েলকে দায়ী করেছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন জানান, কর্মী সমাবেশে কারো পক্ষে মিছিল ও স্লোগান দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এনামুল কয়েকশ লোক নিয়ে তাঁর নামে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করতে চেষ্টা করে। এতে প্রবেশের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের বিতাড়িত করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় এনামুলসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাজান জুয়েল এনটিভি অনলাইনকে জানান, ‘কর্মিসভায় সমস্যা হয়েছে, দলের মধ্যে এ বিষয়টি ঠিক না। আমরা আন্দোলন করছি একটি স্বৈরাচার সরকারকে হটাতে। এখন মূল লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।’
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। সভার প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেনকে নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশের আগেই ওই সংঘর্ষ শুরু হয়। তাই অতিথিদের নিয়ে তিনি সমাবেশে না নিয়ে শহরে চলে যান।
জাফরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাটি খন্দকার মোশারফ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম