মা-বাবাকে প্রতিদিন ১০০ টাকা দিতেও রাজি নয় ছেলে!
ফরিদপুরে নিজের ও বৃদ্ধ স্বামীর ভরণ-পোষণের দাবিতে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বৃদ্ধা জহুরা বেগম। আজ সোমবার ফরিদপুরের চার নম্বর আমলি আদালতে এ মামলা করা হয়।
ওই আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. সুমন হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে একমাত্র আসামি ওই বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে সেলিম সরদার ওরফে মধুর (৩৫) প্রতি সমন জারি করেছেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইনে মামলাটি করা হয়। ফরিদপুরে এ আইনে করা এটিই প্রথম মামলা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার বাদী জহুরা বেগমের বয়স ৬০ বছর। তাঁর স্বামী পাচু সরদারের বয়স ৭৫ বছর। তাঁরা মধুখালী উপজেলার ব্যাসদী গাজনা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের দুই ছেলে। বড় ছেলে মুরাদ সরদার অনেক আগেই আলাদা হয়ে যান। তাঁরা ছোট ছেলে সেলিমের সঙ্গে থাকতেন। তাঁদের যে বসতভিটা ছিল সে জমি তাদের ভরণ-পোষণের শর্তে ছোট ছেলে সেলিম সরদারকে লিখে দেন। কিন্তু সেলিম সরদার গত ১৪ জানুয়ারি বিকেলে তাঁর মা-বাবাকে বাড়ি থেকে জোর করে তাড়িয়ে দেন। বর্তমানে ওই বৃদ্ধ দম্পতি অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মানিক মজুমদার জানান, গত ১৪ এপ্রিল ওই বৃদ্ধ দম্পতি এলাকার কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁর ছেলের কাছে তাঁদের ভরণ-পোষণ বাবদ প্রতিদিন ৫০ টাকা করে মোট ১০০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু তাঁর ছেলে সে প্রস্তাবও নাকচ করে দেন। এমতাবস্থায় ছেলের কাছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইনে এ মামলা করেন বৃদ্ধা জহুরা বেগম।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর