অবশেষে একুশকে পেলেন শাকিলা
চট্টগ্রামে ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক একুশকে নিঃসন্তান চিকিৎসক জাকিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শাকিলা আক্তারের হাতে তুলে দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. দেবাশিষ কুমার রায়কে একুশকে ওই দম্পতির হাতে তুলে দেওয়ার আদেশ দেন।
এর পরই হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স আইনগত অভিভাবকের হাতে একুশকে তুলে দেন। তাকে কোলে নিয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন শাকিলা আক্তার।
আদালতের নির্দেশে চিকিৎসক জাকিরুল ইসলাম জাকির ও তাঁর স্ত্রী শাকিলা আক্তার দম্পতি একুশের শিক্ষাবিমা বাবদ প্রথম কিস্তি এক লাখ ৫২ হাজার টাকার রসিদ আদালতে জমা দেন।
নবজাতক একুশের আইনগত অভিভাবক হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন জাকিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আদালত সন্তুষ্ট হয়ে একুশকে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। একুশকে মানুষের মতো মানুষ করব। বাকিটুকু আল্লাহর ইচ্ছা।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. দেবাশীষ কুমার রায় বলেন, ‘এসব শিশুর ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। তবে একুশ সে ঝুঁকি কাটিয়ে উঠেছে। এখন সে পুরোপুরি সুস্থ। তাই আদালতের নির্দেশে আমরা আইনগত অভিভাবকের হাতে তাকে তুলে দিয়েছি।’
দেবাশিষ কুমার রায় জানান, টানা ৪৫ দিন পর প্রথম আলো-বাতাস পেয়েছে। একজন নবজাতকের জন্য আলো-বাতাসও জরুরি।
একুশকে পেতে ১৩ নিঃসন্তান দম্পতি আদালতে আবেদন করেছিলেন। গত ২৯ মার্চ আদালত আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ডা. মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির ও শাকিলা আক্তারের কাছে একুশকে হস্তান্তরের আদেশ দেন। তিন মাস পরপর আদালত একুশের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকার কর্নেল হাটের একটি ডাস্টবিন থেকে এ নবজাতককে উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম দেওয়া হয় একুশ। তখন থেকে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম