১২তলার ছাদে গৃহবধূ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস হাজির
ফরিদপুরে শহরে বহুতল ভবনে উঠে এক গৃহবধূ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর নাম কামনা আক্তার।
জানা গেছে, স্বামী সৈয়দ কামরুল হাসান তুষারের সঙ্গে ১২তলা ভবন রাজ্জাক টাওয়ারের অষ্টম তলায় থাকেন কামনা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে টাওয়ারের ছাদে ওঠেন তিনি। ছাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়ে পড়েন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে হাজির হয়। বাবা জালাল মোল্লাও আসেন। আশপাশের লোকজন ভিড় করে।
স্বামী সৈয়দ কামরুল হাসান তুষার বলেন, ‘আমার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। সে বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে আমাদের ব্লাকমেইল করার জন্য। এবারও এটা একটি অভিনয় ছাড়া কিছুই নয়। সে ঘুমের ওষুধ খায় সব সময়।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আজ এ রকম একটি ঘটনার পর রাতে আমাদের ওষুধের দোকানে এসে আমার বাবা ও আমার ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আমার স্ত্রী।’ তিনি বলেন, ‘এখন আমার বাবাকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এবং আমি নিজেও চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে গৃহবধূর ভাই নাজমুল মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমার বোনকে বিভিন্ন সময়ে তাঁর স্বামী অত্যাচার করত। এ কারণে আজ দুপুরে আমার বোন রাগ-অভিমানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।’ তিনি বলেন, দুদিন আগেও স্বামী তাঁর কপালে আঘাত করে এবং সেখানে তাঁর আটটি সেলাই দেওয়া হয়।
আজ রাতে স্বামীর দোকানে গিয়ে হামলার বিষয়ে নাজমুল জানান, তাঁর নিজের জামাকাপড় ও তাঁর ছোট দুই ছেলের জামাকাপড়ের জন্য স্বামীর ওষুধের দোকানে ফ্ল্যাটের চাবি নিতে গিয়েছিলেন। এ সময় তারা চাবি না দিয়ে বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার মো. সাইফুজ্জামান বলেন, ‘দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পুলিশ ও জনতার সহায়তায় তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। তবে মূল কাজটা করেন গৃহবধূর বাবা জালাল মোল্লা। তাঁকে কিছু কথা শিখিয়ে দিয়ে মেয়ের কাছে পাঠানো হয়। বাবার কথামতো মেয়ে কিছুটা শান্ত হন।’ এরপর গৃহবধূর কাছে তাঁর বাবা এগিয়ে যান এবং পা টেনে ধরে তাঁকে রক্ষা করা হয় বলে জানান তিনি।
পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে গৃহলক্ষ্মীপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে কামনাকে রেখে আসা হয়।
প্রায় ছয় মাস আগে স্বামী তুষার ও শ্বশুর সৈয়দ নাজমুল হাসান লোচনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা করেছিলেন কামনা আক্তার। এতে বলা হয়, স্বামী-শ্বশুর নির্যাতন চালান তাঁর ওপর। এ ঘটনায় মুমূর্ষু অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ মামলায় স্বামী তুষার পলাতক থাকলেও শ্বশুর সৈয়দ নাজমুল হাসান লোচনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।
স্বজনরা জানান, সম্প্রতি স্বামী-শ্বশুরের সঙ্গে সমঝোতা হয় কামনা আক্তারের। এরপর কিছুদিন আগে শ্বশুর লোচন জামিনে মুক্তি পান। এর পর থেকে শ্বশুরের সঙ্গে না থেকে স্বামীর সঙ্গে রাজ্জাক টাওয়ারে ছিলেন কামনা।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর