চেয়ারম্যানের কাছ থেকে টাকা আনতে গিয়ে ছেলে নিখোঁজ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের তারানিপুর গ্রামের আবদুল মজিদ কিশোর ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, ছেলে ইসরাফিলকে (১৫) অপহরণ করে ভারতে অথবা অন্য কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি তাঁকে জ্বলন্ত ইটভাটায় নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।
আবদুল মজিদ ছেলে অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। এর আগে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বৃদ্ধ আবদুল মজিদ আজ শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত এ অভিযোগ মিথ্যা। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষ এ ধরনের কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল মজিদ জানান, তিনি একজন বালুশ্রমিক। নদীতে ডুব দিয়ে বালু তুলে তা বিক্রি করেন শ্যামনগরের ভেটখালী এলাকায়। কৈখালী ইউপির চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের একটি ইটভাটা আছে ঈশ্বরীপুরে। সেই ভাটায় তিনি বালু বিক্রি করেন।
লিখিত বক্তব্যে আবদুল মজিদ বলেন, ‘ওই ভাটার জন্য চেয়ারম্যান তাঁর ম্যানেজার আবদুর রাশেদের মাধ্যমে প্রতি ফুট ১৩ টাকা হিসাবে ২৪ হাজার ফুট বালু ক্রয় করেন। তিন লাখ ১২ হাজার টাকা মূল্যের বিপরীতে মাত্র ৫৭ হাজার টাকা দেন চেয়ারম্যান। পাওনা দুই লাখ ৫৫ হাজার টাকা আদায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি আমি আমার ছেলেকে ইটভাটার ম্যানেজার রাশেদের কাছে পাঠাই।’
আবদুল মজিদ দাবি করেন, “কিন্তু টাকা পরিশোধের বদলে ইসরাফিলের মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাঁকে মারপিট করে ভাটার মধ্যে আটকে রাখা হয়। ওই দিন রাত ১০টায় ছেলের খোঁজে ভাটায় গেলে জানানো হয়, ইসরাফিলকে চেয়ারম্যান নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। কিন্তু বাড়িতে গেলে চেয়ারম্যান তাঁকে বলেন, ‘তোর ছেলেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেয়াদবি করার সাধ মিটিয়ে দিয়েছি। তাকে আর কখনো এ দেশে পাবি না’।”
এ ঘটনায় পুলিশ মামলা না নেওয়ায় আবদুল মজিদ সাতক্ষীরা ৫ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমকে। অপর সাত আসামি হলেন আবদুর রহমান, আবদুর রাশেদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল মান্নান, আবু তাহের, রায়হান গাজী ও রফিকুল ইসলাম।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে শ্যামনগর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মামলাটি তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল আহসান কবিরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবদুল মজিদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন, ‘বালু ব্যবসায়ী মজিদ আমার কাছে কোনো টাকা পাবেন না। তাঁর ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ মিথ্যা। সাতদিন আগেও ইসরাফিলকে বাড়িতে দেখা গেছে বলে এলাকার লোকজন আমাকে জানিয়েছে।’

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা